পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারী এক জেলের জালে ধরা পড়েছে সম্রাট অ্যাঞ্জেলফিশ (পোমাক্যান্থাস ইম্পেরেটর) নামের একটি বিরল প্রজাতির মাছ। রবিবার (১০ জুলাই) সকালে মহিপুরে বন্দরে নিয়ে আসলে মাছটিকে দেখে অনেকেই অভাগ হয়ে যায়। গত ৫ দিন আগে গভীর সমুদ্রে জেলে আনোয়ার মাঝির জালে মাছটি ধরা পরে, পরে রবিবার সকালে মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এটিকে অনেকের কাছে এ্যাকুরিয়াম ফিশ নামেও পরিচিত।
জানা যায়, এই প্রজাতিটি ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের স্থানীয়, লোহিত সাগর এবং পূর্ব আফ্রিকা থেকে শুরু করে হাওয়াই এবং অস্ট্রাল দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত। এরা সাধারণত প্রবাল প্রাচীর বা ৫-৬০ মিটার গভীরতায় পাথুরে আবাসস্থলে পাওয়া যায়। রঙিন ও দৃষ্টিনন্দন সামুদ্রিক মাছ। যা মূলত উষ্ণমণ্ডলীয় প্রবাল প্রাচীরের পরিবেশে বাস করে। মাছটির আকার ১৬ ইঞ্চির মতো। গায়ের গাঢ় নীল পটভূমিতে হলুদ অনুভূমিক দাগ, মুখে নীল-কালো “মাস্ক” প্যাটার্ন।
জেলে আনোয়ার ভাষ্য, গত এক সপ্তাহ আগে “এফবি জারিফ তারিফ” নামের একটি ফিলিং ট্রলারে অন্যান্য মাছের সাথে মাছটি ধরা পড়ে। ছোট হলেও মাছটি দেখতে সুন্দর।
মাছটির ওজন হয়েছিল চারশো গ্রাম। সুস্বাদু এই সামুদ্রিক মাছটি অনেকেই খাওয়ার জন্য নিতে চাইলেও আনোয়ার মাঝি মাছটি বিক্রি না করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। এমন মাছ তিনি আর কখনো পায়নি, তাই বিক্রি না করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এর স্বাদ নিবে জানিয়েছেন।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী রহিম মাঝি বলেন, এমন মাছ আমার জীবনে দেখিনি। মাছটি দেখতে অবিকল একুরিয়ামে থাকা মাছের মতো। বাসার সবাইকে দেখানোর জন্য মাছটির কয়েকটি ছবি তুলে নিয়েছি।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “মাছটি বাংলা নাম “অ্যাঞ্জেলফিশ” ‘এটি একটি বিরল প্রজাতির মাছ। মাছটি উপকূলে সচরাচর দেখা যায় না। মাছটি গভীর সমুদ্রের। বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সাথে এটি জেলের জালে উঠে এসেছে। এটা জেলেদের জন্য একটি সুখবর। এসব মাছ যত বেশি ধরা পড়বে জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে তত বেশি লাভবান হবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন ও স্রোতের ধরণ বদলের কারণে কিছু সামুদ্রিক প্রজাতি তাদের আবাসক্ষেত্র প্রসারিত করছে। এর কারণে হয়তো এই প্রজাতিটি বাংলাদেশের জেলেদের জালে ধরা পরছে।
পড়ুন: তুহিন হত্যার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
দেখুন: পিরোজপুরে নিজ ঘরে বৃদ্ধা সাথে যা ঘটলো
ইম/


