যেদিন দুই ভাই ঢাকায় পা রাখেন, সেদিন থেকেই সমর্থকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন। আলোচনায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুই ভাই ডেকলান আর রোনান সুলিভান। বাংলাদেশের হয়ে গতকালই তাদের এক ভাই রোনানের অভিষেক হয়। অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচেই জোড়া গোল করে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখেন রোনান। মালদ্বীপের মালেতে ম্যাচ শেষে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে দুই ভাই মালের গ্যালারির সামনে বাংলাদেশি সমর্থকদের সঙ্গে নিজেদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। ব্রডকাস্ট ক্যামেরার সামনে ঘোষণা দেন রোনান বেঞ্জামিন প্যাটট্রিক সুলিভান। ‘এটা অসাধারণ ছিল, জিততে পারাটা দারুণ লেগেছে। আমাদের লক্ষ্য এবার পরের ম্যাচে ভারতকে হারানো।’
দুই ভাইয়ের এই স্মরণীয় মুহূর্ত ইউটিউবে সারাক্ষণ ফলো করে যাচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাসায় থাকা তাদের আরও দুই ভাই কুইন সুলিভান আর ক্যাভান সুলিভান। বড় ভাই কুইন এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের খেলোয়াড়। আর ক্যাভান মেজর সকার লিগের খেলোয়াড়। নানি সুলতানা আলম বাংলাদেশি হওয়ায় দুই ভাই লাল-সবুজের পতাকা জড়িয়ে খেলতে এসেছেন। জাতীয় দলে হামজা-শমিতদের পর বয়সভিত্তিক দলেও প্রবাসী বাংলাদেশির হাওয়া এনে দিলেন রোনান।
এদিন ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভানের জাদুতে মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল মার্ক কক্সের শিষ্যরা। যদিও প্রথমার্ধজুড়ে বল দখলে রেখে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে জালের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। গোলশূন্য ড্র নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন রোনান। শুরুতে সেভাবে ডি বক্সের মধ্যে বল না পেলেও পরে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়িয়ে বল আদায় করতে থাকেন রোনান। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। যে ফ্রি কিকে তিনি গোলটি করেছেন, সেটাও তিনি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যা কিনা তাঁর পাশে থাকা ফয়সাল ভালোভাবে নেননি, তিনি বারবার ডাগআউটের দিকে ইশারা করতে থাকেন। মুর্শেদ আর ফয়সালদের একক খেলার মানসিকতা চোখে লেগেছে। যেমনটি চোখে লেগেছে রোনানের ভাই ডেকলানের ডাগআউটে বসে থাকাটাও।
অনেক চেষ্টার পর ম্যাচের ৫৪ মিনিটে দারুণ এক ফ্রি-কিক শট থেকে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন রোনান সুলিভান। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে জাল খুঁজে নেন মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলা এ ফরোয়ার্ড। তাঁর এই দর্শনীয় গোলটি স্টেডিয়ামে উপস্থিত বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাসে ভাসানোর পাশাপাশি দলকে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে দেয়।
৫৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে ওয়ান অন ওয়ান পজিশনে বল পেয়েও সুযোগ হাতছাড়া করেন মো. মুর্শেদ আলী। ৬১ মিনিটে ডি-বক্স থেকে হেডে বাংলাদেশের জালে বল জড়িয়েছিল পাকিস্তান। তবে গোলরক্ষককে ফাউল করায় গোল বাতিল করে দেন ম্যাচ রেফারি। ৬৫ মিনিটে ডি-বক্স থেকে নেওয়া মুর্শেদ আলীর নিচু শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে সতীর্থ শেখ সংগ্রামের বাড়ানো দারুণ এক লং পাস থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনান।
রোনানের জোড়া গোলের পর পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকিস্তান। ম্যাচের বাকিটা সময়ও ছিল বাংলাদেশের একচেটিয়া আধিপত্য। বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে পাকিস্তানকে নিজেদের অর্ধে ঢুকতেই দেননি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর ৭ মিনিট যোগ করা সময় দেওয়া হলেও ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি পাকিস্তান।
২৮ মার্চ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তবে আজকের ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট পাওয়ায় সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ পর্যায়ে মোট সাতবার খেলেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন একবার, ২০২৪ সালে। অন্য ছয়বারের মধ্যে রানার্সআপই চারবার। দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি করে মোট চার দল যাবে সেমিফাইনালে। গ্রুপ ‘এ’তে স্বাগতিক মালদ্বীপ ছাড়া আছে নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ ‘বি’তে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান। আগামী ৩ এপ্রিল টুর্নামেন্টের ফাইনাল।
পড়ুন:ছেলেদের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে জোড়া গোলে পাকিস্তানকে হারিয়ে শুরু বাংলাদেশের
দেখুন:ভেসে উঠেছে ইরানের মি/সা/ই/ল সিটি, আন্তর্জাতিক
ইমি/


