জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে সারাদেশে চলছে তেল মজুতের তেলেসমাতি কারবার। এসব ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ডও দিয়েছেন। কোথাও কোথাও তেল না পেয়ে সড়কও অবরোধ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার চিত্র তুলে ধরা হলো-
ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার জামগড়া মোড় এলাকায় মুদিদোকানি শাহজালালের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩৭০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় শাহজালালকে পাওয়া যায়নি। মজুত করা জ্বালানি তেল পরবর্তী সময়ে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে জামগড়া মোড় এলাকায় শাহজালালের বাড়িতে অভিযানে যান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাত। বাড়ির একটি ঘরে ৯টি গ্যালনে ৩৭০ লিটার পেট্রল মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। মুদিদোকানি শাহজালাল মুদিদোকানের পাশাপাশি পেট্রলও বিক্রি করতেন। কিন্তু মজুত রেখে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করছিলেন তিনি।
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে ৮০০ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব তেল লাইসেন্স ছাড়া অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা বিক্রি করার সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এনায়েতুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়ার ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিফাতুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করেন।
আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রামপুর বাজারের ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমান পেট্রল অবৈধভাবে মজুত করে লাইসেন্স ছাড়া অতিরিক্ত দামে খুচরা বিক্রি করে আসছিলেন। খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যায় ইউএনওর নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় এনায়েতুর রহমানের গুদামঘরে অবৈধভাবে ড্রামে মজুত করে রাখা ৮০০ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জব্দ করা এসব পেট্রল শনিবার সকাল ১০টায় রামপুর বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ও পরিমাণ অনুযায়ী প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেন আদালত। এ বিষয়ে কেন্দুয়ার ইউএনও মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর নীরাবল এলাকায় রাতের আঁধারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করায় শাহিনুর ইসলাম (১৯) নামের এক তরুণকে দুই হাজার টাকা জরিমানা ও পাঁচ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল রাত ১০টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশতিয়াক আহমেদ এ আদালত পরিচালনা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শাহিনুর ইসলাম উপজেলার কালিয়াগঞ্জ গোপিনাথপুর গ্রামের নুরুজ্জামান মানিকের ছেলে। একই সময়ে অবৈধভাবে পেট্রল বিক্রির দায়ে ধর্মজৈন কাতুলিয়াপাড়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে (৩৫) দুই হাজার টাকা এবং পার্বতীপুর উপজেলার পশ্চিম বাজিতপুর গ্রামের ইয়ানুস সিয়াম (১৭) নামের এক কিশোরকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জামালপুর শহরের জুই এন্টারপ্রাইজ নামের জ্বালানি তেলের একটি দোকানে তেল বিক্রি না করার ক্ষোভে সড়ক অবরোধ করেছেন মোটরসাইকেলের চালকেরা। পরে স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দোকানে তেলের মজুত পায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রি শুরু করায়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই দোকানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে জামালপুর শহরের জিগাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জিগাতলা এলাকার একটি জ্বালানি তেলের দোকানে তেল কিনতে গিয়ে মোটরসাইকেলের চালকেরা তেল পাননি। বিক্রেতারা তেল নেই বলে জানালে ক্ষুব্ধ চালকেরা জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। খবর পেয়ে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল মাহমুদ ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ওই দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ২ হাজার ৫০০ লিটার তেলের মজুত পান তাঁরা। এরপর প্রশাসনের উপস্থিতিতেই তেল বিক্রি শুরু করা হয়।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় একটি গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নে অভিযানটি পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দার গোয়ালঘরে অবৈধভাবে পেট্রল মজুত রাখা হয়েছিল। অভিযোগ আছে, তাঁর পরিবারের এক সদস্য ড্রামে পেট্রল সংরক্ষণ করে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গোয়ালঘর থেকে পেট্রোলভর্তি ড্রাম ও তেল বিক্রির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত না থাকায় তাঁর পরিবারের অন্য একজন জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
পড়ুন : মেহেরপুরে তেল পাম্পে হট্টগোল, পুলিশ সদস্য আহত, মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগ


