জামালপুরে তীব্র জ্বালানি সংকট জনজীবনের বিভিন্ন খাতকে অচল করে তুলেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ও কৃষি খাতে, যেখানে চলমান সংকট ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাজীবন ও খাদ্য নিরাপত্তা—দুটোকেই হুমকির মুখে ফেলেছে।
দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও জ্বালানি সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকরা। জেলার অনেক শিক্ষক দূরবর্তী এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় সময়মতো প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ফলে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষক বিপুল রানা বলেন, “শিক্ষার্থীদের ক্ষতি আমরা চাই না, কিন্তু তেল সংকটে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”
অন্যদিকে ডিজেল সংকটে সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছে কৃষি খাতে। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় মাঠের ফসল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সময়মতো সেচ না দিতে পারলে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে শুধু কৃষকরাই নয়, ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়তে পারে।
সংকটের প্রভাব পড়েছে সরবরাহ ও সংবাদ খাতেও। সাংবাদিকরা সময়মতো সংবাদ সংগ্রহে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে সময় ও শ্রম—দুটোরই অপচয় হচ্ছে। একইভাবে পণ্য পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন এখন নিত্যদিনের চিত্র। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না। এতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, সরকারি আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই এবং কোথাও কোথাও সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকতে পারে।
তবে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও অবৈধ মজুদবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জ্বালানি সংকট শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ও টেকসই সমাধানের দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।
পড়ুন: যে কারণে উত্তরের ৮ জেলায় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ
আর/


