যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইতিবাচক খবরের প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। ওমানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
এর ফলে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৭ সেন্ট কমে ৬৭.৩৮ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই তেলের দাম ৬১ সেন্ট কমে ৬২.৯৪ ডলারে নেমে আসে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার যে ভয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কাজ করছিল, কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে তা আপাতত স্বস্তিতে রূপ নিয়েছে।
বিশেষ করে ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল রপ্তানি হয় বলে এই অঞ্চলে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ববাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে। যদিও সংঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি, কারণ ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি এবং মার্কিন সামরিক তৎপরতা নিয়ে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকায় যেকোনো নেতিবাচক খবরে তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বাড়তে পারে।
অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়ার তেলের ওপর ইউরোপীয় কমিশনের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব এবং ভারতের মতো বড় ক্রেতাদের রুশ তেল কেনা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বিশেষ করে ভারত এপ্রিলে রাশিয়ার সরবরাহ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বিকল্প তেলের উৎস এবং দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে এখন সবার নজর। এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপরই আগামী দিনগুলোতে তেলের দামের হ্রাস-বৃদ্ধি নির্ভর করবে।
পড়ুন:স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন বাংলাদেশী আবু মিরন
দেখুন:স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন বাংলাদেশী আবু মিরন
ইম/


