১৮/০২/২০২৬, ১৮:৩৮ অপরাহ্ণ
28 C
Dhaka
১৮/০২/২০২৬, ১৮:৩৮ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ঝিনাইদহে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি, কিছু জিনিসের দাম বাড়তি

রমজান মাস সামনে রেখে ঝিনাইদহের নিত্যপণ্যের বাজারে চাল-ডাল, ভোজ্যতেল ও মসলার দাম বেশ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ছোলা/বুট, লেবু, বেগুন, পেঁয়াজ ও শসার দাম কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া জেলার অধিকাংশ বাজারে শাক-সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালেই রয়েছে। রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নাগালে রাখতে সরকারের মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) সকালে সরেজমিন জেলা শহরের নতুন হাটখোলা বাজার ঘুরে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলা শহর ও বড় বাজারগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনের ঝিনাইদহের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বুধবার পর্যন্ত আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা, রসুন প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া বেগুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন মান ভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে লাউ আকার ভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পিস, মিষ্টি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, করোলা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহের শেষ দিন পর্যন্ত ঝিনাইদহের বিভিন্ন বাজারে বেগুন কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪৫ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে, রমজান মাস শুরুর আগের দিনই এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।

সবজি ছাড়াও রমজান মাসে খেজুর, চিনি, আখের গুড়, ছোলা/বুট ও লেবুর দাম কিছুটা বেড়েছে। মান ভেদে খেুজরের দাম সাড়ে ৩শ’ টাকা কেজিতেও পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া লাল চিনি কেজি প্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সাদা চিনি কেজি প্রতি ১৪০ টাকা, দেশী ছোলা প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও আমদানীকৃত ছোলা প্রতি কেজি ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

নাহিদ হোসাইন নামে এক ক্রেতা বলেন, রোজার আগে অন্যান্য বছর নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বেড়ে যেতো, এবার সেরকম চিত্র দেখছি না। গত রমজানেও মানুষ বাজারে স্বস্তি পেয়েছে। আশা করবো, নতুন সরকার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

দিলারা পারভীন নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, কাগজি লেবু, শসা, বেগুন ও করোলার দাম বেশ বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। এক হালি লেবুর দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে।

আনারুল ইসলাম নামে এক বিক্রেতা বলেন, রসুন, আদা, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, আলুর দাম নাগালেই রয়েছে। কাঁচামালের দাম সব সময় উঠানামা করে। বাজারে শাক-সবজির যোগানের ওপর দাম কম বেশি হয়।

পাইকারি সবজি ও নিত্যপণ্য ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, ছোলা, বুট, ভোজ্যতেল, চিনির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এখন বাজারে কোনো সিন্ডিকেট নেই। এজন্যই মূলত বাজারের দাম দর ঠিক আছে। রমজান মাস উপলক্ষ্যে বেচাকেনাও বেড়েছে।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বলেন, রমজান মাস সামনে রেখে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত এরই মধ্যে অভিযান শুরু করেছে। গত এক বছরে আমরা বাজার সিন্ডিকেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। সবজির বাজার, মুরগী ও মাংসের দোকান ও ইফতার সামগ্রী বিক্রয়ের দোকানগুলোতে অভিযান চলমান রয়েছে। পুরো রমজান মাসজুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পড়ুন- বকশীগঞ্জে জমি বিরোধে দা হাতে হামলার অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন