ঝিনাইদহের মহেশপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সকল আসামী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। ওই ঘটনায় ভিকটিমের ফুফু বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে মহেশপুর থানায় গত ২৭ মার্চ চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানায় জেলা পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল জানান, গত ৩১ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশপুর থানায় জানতে পারে, উপজেলার বাগদিয়ার আইট গ্রামে একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে আইনি সহায়তার আশ্বাস পেয়ে ভিকটিমের ফুফু বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়।
এছাড়া মামলার তদন্ত সূত্রে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৬ মার্চ রাতে ভিকটিম তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রথমে ওই প্রেমিক তাকে ধর্ষণ করে। পরে আরও কয়েকজন এসে প্রেমিককে মারধর করে সরিয়ে দেয় এবং ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় এক আসামী মোবাইল ফোনে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
ঘটনার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে একে একে সব আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। মহেশপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদের আদালতে পাঠানো হলে তারা সবাই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা মোবাইল ফোন দুটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এছাড়া ভিকটিমের জবানবন্দিও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী আদালতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ঘটনার পরে ৬ দিন পেরিয়ে গেলে ভিকটিমের পরিবার পুলিশে অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশের সকল ইউনিট ঘটনার তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার অভিযান শুরু করে। ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

