ঝিনাইদহে সাইবার অপরাধ দমন অভিযানে মোবাইল ফোন ও অর্থ উদ্ধারসহ একাধিক সাইবার বুলিংয়ের শিকার ভিকটিমকে সহায়তা দিয়েছে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। চলতি এপ্রিল ও মে মাসে সংগৃহীত সাফল্য তুলে ধরতে বুধবার (২৯ মে) সকালে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইমরান জাকারিয়া উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে হারানো অর্থ প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে প্রতিনিয়ত ঘটছে সাইবার অপরাধ। কিশোর-কিশোরী, নারী ও নানা পেশার মানুষ সাইবার বুলিং, প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব অপরাধ দমনে গঠিত হয়েছে ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।
সেলের কর্মকর্তারা জানান, ক্লু-লেস খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, বিকাশ প্রতারণা, অনলাইন জুয়া, সাইবার বুলিং, হারানো মোবাইল ও ভিকটিম উদ্ধারে কাজ করছে এই ইউনিটটি। এছাড়া থানা পর্যায়ে তদন্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তিগতভাবে।
গত দুই মাসে সেলটি ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ৯৬টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৯৩ হাজার ৬২৮ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ১৯ জন ভিকটিমকে সহায়তা দিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গৃহিণী, চাকরিজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ রয়েছেন। একই সময়ে জেলার বিভিন্ন থানায় দায়ের করা জিডি, অভিযোগ বা মামলার ভিত্তিতে ১৩ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম টিমের এমন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা জানান, দ্রুত সহায়তা ও তদন্তে তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরেছে।
পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার অপরাধ দমনে এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
পুলিশ সুপার বলেন, “সাইবার অপরাধ রুখতে হলে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও জরুরি। আমরা প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
পড়ুন: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে লাটির আঘাতে বৃদ্ধের মৃত্যু
এস


