নির্যাতন সইতে না পেরে স্ত্রীর হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের কোঁটচাদপুর উপজেলার কলেজ পাড়ায়। ভুক্তভোগী স্বর্ণা ঝিনাইদহ পৌরসভার মহিলা কলেজ পাড়ার মৃত মোশাররফ হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত আব্দুল হান্নান ঝিনাইদহের কোটচাদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী আব্দুূল হান্নান বিগত ১৫ বছর ধরেই স্বর্ণাকে বিভিন্ন সময় শারিরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছিলো।এমনকি যৌতুক হিসেবে টাকাও দাবি করেন অভিযুক্ত আব্দুল হান্নান। সর্বশেষ ২৩ আগস্ট স্বামী আব্দুল হান্নান স্বর্ণাকে পারিবারিক কলহের জেরে মারধর করলে র্স্বণা ১৫টি ঘুমের ঔষুদ সেবন করে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন । এক পর্যায়ে তাকে কোটচাদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তারপর তাদের পারিবারিক কলহ নিরসনের জন্য স্বর্ণার দুলাভাই খাদেমুল ইসলাম গতকাল ২৬ আগস্ট মঙ্গলবার তাদের বাড়িতে যায় এবং সন্ধ্যায় পরিবারের সকলকে নিয়ে আলোচনাকালে হান্নান স্বর্ণাকে তালাক দেয়ার কথা বললে স্বর্ণা নিজ ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
পরে ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে কোটচাদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তাকে নিয়ে কোটচাদপুর থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আজ সকাল ১১টার দিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এদিকে ভুক্তভোগীর মা ও চাচা অভিযোগ করে জানান, এটি হত্যাকান্ড । তাদের ঘটনা স্থলে যাওয়ার আগেই লাশ নামানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটচাদপুর থানার ওসি মো. কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, এঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে জানা গেছে । তবে পরিবার হত্যাকান্ড দাবি করায় লাশটি ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে আসল ঘটনা।
পড়ুন : ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে দালাল সহ ৯ বাংলাদেশিকে আটক করল বিজিবি


