টঙ্গী স্টেশন রোড আম তলায় অবস্থিত তিন তারকা হোটেল জাবান হোটেল এন্ড বারে অভিযান চালিয়েছে গাজীপুর জেলা দক্ষিণের গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) পুলিশ।
গতকাল রাত ১০.৩০ থেকে ১২ টা পর্যন্ত দেড় ঘন্টার সাঁড়াশি অভিযানে মিলেনি ইয়াবাসহ অবৈধ কোন কিছুইর আলামত।
জানা যায়, টঙ্গীর জাবান হোটেলে রয়েছে একটি বার, ৩ তারকা এই হোটেলে রাত্রি যাপনে অতিথিদের জন্য রয়েছে নানান সুযোগ সুবিধা।
ইন্ডাস্ট্রিয়ার এলাকা হওয়ায় ঔ হোটেলে দেশ বিদেশের নামি-দামি কোম্পানির বেদেশী বায়ার ও বড় বড় ব্যবসায়ীরা অবস্থান করেন। এতে সরকার পাচ্ছে নিয়মিত রাজস্ব।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে টঙ্গীর জাবান হোটেলে অবৈধ মাদক ব্যবসা করা হয়। এ ছাড়াও অভিযোগ উঠেছে হোটেল রুমে অনৈতিক কার্যকলাপ হয়ে থাকে।
টঙ্গীর ৩ তারকা হোটেল এন্ড বারে হঠাৎ অভিযান বিষয়ে গাজীপুর দক্ষিণ ডিভিশন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)র এস আই হারিছুর রহমানের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আমাদের ডিসি অশোক কুমার পাল মহোদয়ের নির্দেশে জাবান হোটেল নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি। তিনি বলেন, আমরা ৮ জনের টিম জাবান হোটেলের প্রতিটি রুমে সাঁড়াসী অভিযান চালাই। আমরা প্রথমে বারে অভিযান চালাই, সেখানে গিয়ে দেখি বারের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে আমারা প্রতিটি আবাসিক রুমের তালা খুলে তল্লাশি করি। অভিযানের সময় হোটেলের ৮ টি রুমে গেস্ট ছিল।
ঐ সব রুম গেস্টের আইডি চেক করে তাদের নাম ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়।
ডিবি পুলিশের ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, জাবান হোটেলের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ সংবাদে তুলে ধরা হয়েছে, আমরা এ সব ঘটনার প্রমান পাইনি।
এ বিষয়ে জাবান হোটেলের পরিচালক সাইমন খান বলেন, একটি কুচক্রী মহল নিজের মালিকানাধিন বেসরকারি একটি চ্যানেল ব্যবহার করে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায়। তারা আরো করেকটি নামসর্বস্ব পত্রিকা ও ২০২৪ সালের ফুটেজ দিয়ে নামে বে-নামে সংবাদ প্রকাশ করে আসছে। এতে মূলধারার সাংবাদিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তারা আমার রিপোটেশন খারাপ করতে এমন মিথ্যা, বানোয়াট ও গুজুব ছড়াচ্ছে।
মাদক ও অনৈতিক কার্যকলাপ বিষয়ে তিনি বলেন, এ গুলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত ও বনোয়াট। জাবান হোটেল এন্ড বারের মালিকানা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এই হোটেল ২ বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিয়েছি “। জাবান হোটেলের বার লাইসেন্স নবায়নসহ অন্যান্য লাইসেন্স বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বার লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে, এছাড়াও আরো ১৬ টি ডিপার্টমেন্টের বৈধ কাগজ পত্র রয়েছে আমাদের কাছে। তারা যথাযথ নিয়ম মেনে হোটেল এবং বার চালাচ্ছে।আশপাশের লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, টঙ্গীর এই পাঁচ তারকা হোটেলটির মালিক ছিলো শেখ বাদল। ৫ আগষ্টের পর এই হোটেলটি ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছেন সাইমন খান। তিনি হোটেলের দায়িত্ব দেওয়া পর থেকে এখানকার সার্বিক পরিবেশ পরিবর্তন হয়েছে। এখানে কোন ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ চলে না। এই হোটেলে এলাকার বেকার যুবকরা কাজ করে তাদের সংসার চালায়। তারা আরো বলেন, গত কয়েকমাস থেকে বাদলের কোন এক আত্মীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে হোটেলটি দখল করার হীন চেষ্টা করছে।


