২৭/০২/২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
30.4 C
Dhaka
২৭/০২/২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

টাঙ্গাইলে পরীক্ষার আগেই ছড়িয়ে পড়ছে প্রশ্নপত্র, নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা আদায়


টাঙ্গাইলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে পরীক্ষার ফি। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা কর্মকর্তারা আর্থিকভাবে লাভবান হতেই সরকারি নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা আদায় করছে। এ বছরই প্রথম জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে পরীক্ষার ফি আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা না মানায় পরীক্ষার আগেই অভিভাবকদের কাছে চলে গেছে প্রশ্নপত্র।

বিজ্ঞাপন

জেলার কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানায়, গত ২৮ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিমাসিক, অর্ধবার্ষিক এবং বার্ষিক পরীক্ষার ফি ধার্য্য সম্পর্কে অনলাইনে মতামত প্রদানের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পরীক্ষার ফি ২০ টাকা, তৃতীয় শ্রেণীর জন্য ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণীর জন্য ৪০ টাকা ও পঞ্চম শ্রেণীর জন্য ৫০ টাকা ফি নির্ধারনের মতামত চাওয়া হয়। সেটি লিখিতভাবে অনুমোদন বা প্রজ্ঞাপনের আগেই টাকা গুলো আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে অভিভাবক প্রতিবাদ জানিয়েও কোন সুরাহা হয়নি।

এদিকে গত ২৪ নভেম্বর পরীক্ষার সময় সূচিসহ ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাহাব উদ্দিন।

নির্দেশনাবলির মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের আসন বিন্যাস করে পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। চারু ও কারুকলার মূলায়নে বাজার থেকে ক্রয়কৃত কোন উপকরণ গ্রহণ করা যাবে না। প্রতিদিনের প্রশ্নপত্র সীলগালা করে প্রধান শিক্ষকের নিকট প্রদান করতে হবে। প্রধান শিক্ষক প্রশ্নের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা নিশ্চিত করবে। সকল পর্যায়ে পরীক্ষা প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা করতে হবে, কোন অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দায়ি থাকবে। উত্তরপত্রের সঠিক মূল্যায়ন করে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে মা বা অভিভাবক সমাবেশ করে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। ফলাফল প্রকাশ শেষে সাত দিনের মধ্যে প্রধান শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে।
তবে এ নির্দেশনার কোন কিছুই মানছে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জাকারিয়া হায়দার। তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষক টাকা আদায় করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও প্রশ্নপত্র বিতরণের ক্ষেত্রে কোন নির্দেশনাই মানছেন না। পরীক্ষার আগেই প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর সকল প্রশ্ন পত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ছড়িছে পড়েছে প্রশ্নপত্র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেন, আদায়কৃত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পরীক্ষার ফি ২০ টাকা, তৃতীয় শ্রেণীর জন্য ৩০ টাকার মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসে ১০ টাকা ও চতুর্থ শ্রেণীর জন্য ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণীর জন্য ৫০ টাকা ফির মধ্যে ১৫ টাকা শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হচ্ছে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর প্রশ্ন পত্র তৈরিও ১৫ টাকা হবে না। এছাড়াও কয়েক দিন আগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মডেল বৃত্তি পরীক্ষার ওএমআর শীটের জন্য ৩০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রিকশা চালক লাল চান বলেন, আমরা গরিব মানুষ বলেই তো সরকারি স্কুলে ছেলেকে পড়তে দিয়েছি। আগে পরীক্ষার ফি না নেওয়া হলেও এ বছর পরীক্ষার ফি নেয়া হচ্ছে। এই পরীক্ষা ফি দিতে না চাইলে আমার ছেলে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না বলে হুমকি দেন। তাই বাধ্য হয়ে ৫০ টাকা পরীক্ষার ফি দিয়েছি।


এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জাকারিয়া হায়দার বলেন, পরীক্ষা ফি নেওয়ার জন্য আমরা কোন লিখিত চিঠি পাইনি। মৌখিকভাবে অনুমতি পেয়েছি। এছাড়াও প্রশ্নপত্র সিলগালা করতে ও গোপনীয় রক্ষার জন্য যে খাম প্রয়োজন তার বরাদ্দ আমরা সরকার থেকে বরাদ্দ না পাওয়ার কারনে গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারি না। প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়লে কিছু করার নেই।

পড়ুন: ৮ কুকুরছানা হত্যা, এবার সেই সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী গ্রেপ্তার

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন