মৌলভীবাজার জেলার হাকালুকি হাওরের কাউয়া দিঘি ও হাইল হাওরের নিম্নাঞ্চলে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে করে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
একই সময়ে জেলার বিভিন্ন উঁচু এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়, ভারী বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষিজমি লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে এবং ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
হাওর এলাকার কৃষকরা জানান, জুড়ি থেকে প্রবাহিত কন্টিনালা নদীর পাশ দিয়ে এবং নতুন খননকৃত খালের তীর ঘেঁষে যদি শক্তিশালী বাঁধ বা সড়ক নির্মাণ করা হতো, তাহলে হঠাৎ আসা পানির ঢলে ধানক্ষেত এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও এখনো কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও তারা অভিযোগ করেন।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতেও এমন দুর্যোগে তারা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলার কৃষিবিদ মো. জালাল উদ্দীন জানান, এ বছর জেলায় প্রায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে ফসল পাকতে শুরু করেছে এবং দ্রুত ধান কাটার প্রস্তুতি চলছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে কিছু নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এখন থেকে বৃষ্টি কম হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে এবং অনেক ক্ষেতেই ফসল পুনরুদ্ধার সম্ভব। কিন্তু যদি আবার ভারী বৃষ্টি হয়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি—নইলে প্রতি বছরই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
পড়ুন: পিরোজপুরে ৬ দোকান পুড়ে ছাই
আর/


