টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের গুরুত্ব বরাবরই বিশেষ। ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই অবদান রাখতে পারেন এমন ক্রিকেটাররা মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। তাই সীমিত ওভারের এই ফরম্যাটে অলরাউন্ডারদের মূল্য অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে নিয়মিত র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সেই র্যাঙ্কিংয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডারদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ক্রিকেট বিষয়ক খ্যাতনামা ম্যাগাজিন উইজডেন।
আইসিসি খেলোয়াড়দের ব্যাটিং ও বোলিং পারফরম্যান্স আলাদা করে ১ থেকে ১০০০ পয়েন্টের স্কেলে মূল্যায়ন করে। অলরাউন্ডারদের ক্ষেত্রে এই দুই রেটিংকে গুণ করে ১০০০ দিয়ে ভাগ করে একটি সম্মিলিত স্কোর নির্ধারণ করা হয়। ফলে কোনো ক্রিকেটারের শীর্ষে উঠতে হলে একই সময়ে ব্যাট ও বল দুই ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হয়।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত মাত্র একজন ক্রিকেটারই ৫০০ এর বেশি অলরাউন্ডার রেটিং অর্জন করতে পেরেছেন। তিনি হলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন।
শীর্ষে শেন ওয়াটসন
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ওয়াটসন। ওপেনিংয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে নিয়মিত উইকেট নেয়ার ক্ষমতা ছিল তার। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি ম্যাচের পর তার অলরাউন্ডার রেটিং পৌঁছে যায় ৫৬৬ পয়েন্টে, যা এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ। এই রেকর্ড এখনও অটুট রয়েছে।
পাকিস্তানের দুই তারকা
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ। ২০১৩ সালে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ৪৫২ পয়েন্টে পৌঁছান। অফ স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি টপ অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ রান করে দলকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন হাফিজ।
তালিকার তৃতীয় স্থানে আছেন পাকিস্তানেরই আরেক কিংবদন্তি অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি। বিধ্বংসী ব্যাটিং ও কার্যকর লেগ স্পিনের জন্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আলাদা পরিচিতি ছিল তার। ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন আফ্রিদি। তার সর্বোচ্চ অলরাউন্ডার রেটিং ছিল ৪৩৭ পয়েন্ট।
বাংলাদেশের গর্ব সাকিব
তালিকার চতুর্থ স্থানে আছেন বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই দলের প্রধান ভরসা তিনি। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তার অলরাউন্ডার রেটিং ৪২০ পয়েন্টে পৌঁছায়। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে অন্যতম সফল অলরাউন্ডার হিসেবেই বিবেচিত হন সাকিব।
ম্যাক্সওয়েল ও জয়সুরিয়ার অবদান
অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল তালিকার পঞ্চম স্থানে আছেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ স্পিনে মাঝেমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট এনে দেয়ার জন্য পরিচিত তিনি। ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের পর তার রেটিং ৩৭৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।
শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ওপেনার সানাথ জয়াসুরিয়া টি-টোয়েন্টিতেও ছিলেন কার্যকর অলরাউন্ডার। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতি স্পিনে বহু গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের সময় তার রেটিং সর্বোচ্চ ৩৬৬ পয়েন্টে ওঠে।
যুবরাজ ও নবীর উপস্থিতি
ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং তালিকার সপ্তম স্থানে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রথম দিকের বড় তারকাদের একজন তিনি। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে টানা ছয় ছক্কা হাঁকানোর ঘটনা ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
অষ্টম স্থানে আছেন আফগানিস্তানের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে ৫৪ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করে তিনি নিজের সর্বোচ্চ রেটিং অর্জন করেন।
অস্ট্রেলিয়ার হাসি ও জিম্বাবুয়ের রাজা
তালিকার নবম স্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার ডেভিড হাসি। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর অফ স্পিন বোলিংয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতেন তিনি।
আর দশম স্থানে আছেন জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। ২০২৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক ম্যাচে ৪৩ বলে ৭৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তিনি। ওই ম্যাচের পর তার অলরাউন্ডার রেটিং পৌঁছায় ৩২৮ পয়েন্টে।
আইসিসির এই পরিসংখ্যানভিত্তিক তালিকায় ভারতের হার্দিক পান্ডিয়া কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্রাভোর মতো জনপ্রিয় অলরাউন্ডারদের নাম নেই। তবে পরিসংখ্যানের বিচারে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের মধ্যে এখনও সবার ওপরে রয়েছেন শেন ওয়াটসন।
পড়ুন : পাকিস্তান সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা বাংলাদেশের


