১৫/০১/২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
22 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

টেকসই কৃষির পথে এগিয়ে চলেছে জামালপুর

জামালপুরের কৃষিতে চলছে এক নীরব বিপ্লব। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই শুধু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে কৃষকরা তৈরি করছেন নিজস্ব তরল জৈব সার ও বালাইনাশক ও হরলিকস। আর এই উদ্যোগ শুধু মাটির স্বাস্থ্যই ফিরিয়ে দিচ্ছে না, বাড়াচ্ছে ফসলের উৎপাদন, কমাচ্ছে খরচ এবং নিশ্চিত করছে বিষমুক্ত খাদ্য।

জানা যায়, জামালপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা এখন নিজেরাই তৈরি করছেন তরল জৈব সার। এতে ব্যবহার হচ্ছে গোবর, ডিম, দই, চিটাগুড়, পচনশীল উদ্ভিদসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান। এভাবে তৈরি তরল জৈব সার জমির উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়, মাটির গঠন উন্নত করে এবং রাসায়নিক সার ব্যবহার একপ্রকার বন্ধ করে দিতে সক্ষম।

এ বিষয়ে চাষি খালেক মিয়া জানান কৃষি অফিসের শেখানো পদ্ধতিতে তরল জৈব সার আমরা এখন নিজেরাই তৈরী করে ফসলের মাঠে দিয়েছি। মাশাল্লাহ আমাদের ফসল চমৎকার হয়েছে।

এই জৈব সার ও বালাইনাশক শুধু শাক-সবজিতেই নয়, ধান, পাট, ডালসহ প্রায় সব ধরনের ফসলেই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, রাসায়নিক সার ব্যবহারের তুলনায় এই জৈব পদ্ধতিতে ফসল বেশি হয়, জমির উর্বরতা বজায় থাকে, এবং মাটির দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয় না।

রহিমা খাতুন নামে এক নারী কৃষাণী বলেন,আগে জমি শুকিয়ে যেত, এখন জমি যেন আবার বাঁচতে শুরু করেছে। এ বছর ফসলের ফলনও বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা ভাল দেখছি।

বাজারে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফসলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সচেতন ভোক্তারা রাসায়নিক মুক্ত খাবার পেতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলে কৃষকদের অনুপ্রেরণা আরও বাড়ছে।

স্থানীয় ভোক্তা বেলাল হোসেন বলেন“ রাসায়নিক সার ও কীটনাশকে উৎপাদিত খাদ্যে বাধ্য হয়েই আমরা খাচ্ছি। তবে একটা সুখব শুনলাম যে, জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিশেষ তত্বাবধানে জৈবিক উপায়ে শাক সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্য পন্য উৎপাদিত হচ্ছে। সে সব সামগ্রী পেতে আমরা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমাদের সন্তানদের নিরাপদ খাবার দিতে চাই। এসব জৈব পণ্য পেলে নির্ভয়ে কিনবো ।

এই বিপ্লবের পেছনে রয়েছে জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিবিড় পরিশ্রম। প্রতিটি উপজেলায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে কিভাবে জৈব সার তৈরি করতে হয়, কিভাবে তা প্রয়োগ করতে হয় এবং এর সুফল কেমন?

এ নিয়ে বকশিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা চাচ্ছি প্রতিটি কৃষক নিজেই তার সারের যোগান দিতে পারুক—এটাই টেকসই কৃষির ভবিষ্যৎ।

জামালপুরের খামারবাড়ি’র অতিরিক্ত উপ পরিচালক দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন“তরল জৈব সার শুধু জমির উপকার করে না, এটি পরিবেশবান্ধবও। মাটির পুষ্টিগুন বৃদ্ধিসহ ফসলের ফলন বাড়াতে জৈবিক উপায় অন্যতম। এ অঞ্চলের কৃষকদের আগ্রহ দেখে আমরাও উৎসাহিত।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, তরল জৈব সার, হরলিকস ও বালাইনাশক শুধু কৃষি খাতে নয়, পরিবেশ রক্ষার দিক থেকেও এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জলজ প্রাণী, মৌমাছি, পাখি ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে রাসায়নিক ব্যবহার কমাতেই হবে। আমরা সেই লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছি।জামালপুরের এই কৃষি উদ্যোগ শুধু একটি জেলার সীমায় থেমে নেই—এটি হতে পারে দেশের কৃষি ব্যবস্থার রোল মডেল। কম খরচে অধিক ফলনের পাশাপাশি বিষমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করার এই পথই হয়তো আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।

রাসায়নিক সার ও কীটনাশক নির্ভরতা থেকে বের হয়ে জামালপুরের কৃষকরা প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছা আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে সম্ভব টেকসই কৃষি।” তরল জৈব সার, বালাইনাশকসহ হরলিকস” নামের এই কৃষি উদ্ভাবন শুধু ফসল নয়, বদলে দিচ্ছে কৃষির দর্শনও।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : শওকত হাসান মিঞার অতীত ও বর্তমান ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন