কাতারের রাজপরিবার থেকে একটি বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮০০ উড়োজাহাজ উপহার হিসেবে পাচ্ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই উপহার গ্রহণ করতে সম্মতি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। খবর নিউইয়র্ক টাইমস, এবিসি নিউজ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের।
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, উপহার হিসেবে প্রাপ্ত এই উড়োজাহাজটি প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর মর্যাদায় উন্নীত করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে এতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও সামরিক উন্নয়ন করবে টেক্সাস-ভিত্তিক সামরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলথ্রিহ্যারিস। তারা আশা করছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে।
এই উড়োজাহাজটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। এটি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করে, তবে এটি হবে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে দামি রাষ্ট্রীয় উপহার।
ট্রাম্পের নিজস্ব ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ রয়েছে, যার নাম ‘ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান’। এটি একটি পুরনো বোয়িং ৭৫৭ মডেলের বিমান, যা তিনি ২০১১ সালে কিনেছিলেন। নতুন এই বোয়িং ৭৪৭-৮০০ বিমানে বিলাসবহুল ডাইনিং, শোবার ঘর, বোর্ডরুম, লাইব্রেরি—সবই রয়েছে। এজন্য একে ‘ফ্লাইং প্যালেস’ বা ‘উড়ন্ত প্রাসাদ’ বলা হচ্ছে।
২০২৩ সালে বোয়িং সংস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নির্ধারিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ সময়মতো সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিকল্প খুঁজছিল হোয়াইট হাউস। এরই মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাতারের মালিকানাধীন উড়োজাহাজটি অবতরণ করে এবং ট্রাম্প নিজে সেটি ঘুরে দেখেন।
তবে বিষয়টি ঘিরে আইনি বিতর্কও উঠেছে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রপতি বা সরকারি কর্মকর্তা কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া বিদেশি সরকারের কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করতে পারেন না। যদিও সরকারি আইনজীবীরা জানিয়েছেন, উপহারটি সরাসরি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির জন্য দিলে এতে আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি নেই। রোনাল্ড রিগানের সময়েও একই ধরনের উদাহরণ ছিল।
কাতারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে উড়োজাহাজটি ট্রাম্পের লাইব্রেরির জন্য অনুদান হিসেবে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ট্রাম্প চাইলে সেটি ব্যক্তিগত ভ্রমণে ব্যবহার করতে পারবেন বলেও জানায় তারা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, সরকারের মালিকানা পাওয়ার পরই কেবল বিমানটিকে সামরিক সক্ষমতায় উন্নীত করা সম্ভব হবে এবং এতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
তবে হোয়াইট হাউস কিংবা কাতার এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরকারি বিবৃতি আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প কাতারসহ তিনটি দেশে সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেটিকে তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বড় বিদেশ সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পড়ুন: স্থায়ীভাবে পুরো গাজা দখলের দিকে এগোচ্ছে ইসরায়েল
দেখুন: ইউক্রেনের পর গাজা সংঘাতেও যুক্তরাষ্ট্র—রাশিয়ার পরোক্ষ যুদ্ধ
ইম/


