ঠাকুরগাঁওয়ে এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর উদ্যোগে “নিবাসী শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন, প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণ কৌশল” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) প্রাঙ্গণে “নিবাসী শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা, প্রতিবন্ধকতা এবং উত্তরণ কৌশল” শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল মামুন। তিনি বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এতিম ও দুঃস্থ শিশু এখনও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের যথাযথ পরিচর্যা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।
সেমিনারে জানানো হয়, সমাজসেবা অধিদফতরের আওতায় বর্তমানে সারাদেশে ৮৫টি শিশু পরিবার পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রায় ১০ হাজার শিশুকে ভরণপোষণ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়েছে।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), ঠাকুরগাঁওয়ে ৬ থেকে ৯ বছর বয়সী এতিম শিশুদের ভর্তি করে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত লালন-পালন, শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে বক্তারা উল্লেখ করেন, জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের অভাব শিশুদের উন্নয়নে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি, আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু এবং মনোসামাজিক সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাজমুল হক সুমন, সহকারী পরিচালক সাইয়েদা সুলতানা, সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) উপ-তত্ত্বাবধায়ক সারোয়ার মুর্শিদ আহমেদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে এতিম ও অসহায় শিশুদের শুধু আশ্রয় নয়, বরং দক্ষ ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
পড়ুন- রোববার থেকে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


