: ঠাকুরগাঁওয়ে তিনটি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনকে ঘিরে জেলার তিনটি আসনজুড়ে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও আমেজ।
জেলায় রয়েছে ৩টি পৌরসভা ও ৫৪টি ইউনিয়ন। মোট ৪১৭টি ভোটকেন্দ্রের ২ হাজার ৩৩৪টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২ হাজার ১১৬টি স্থায়ী ও ২১৮টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১২ লাখ ১ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে ৬ লাখ ৬ হাজার ৯০৭ জন পুরুষ, ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫৯ জন নারী এবং ৭ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। গত নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটার বেড়েছে ৫৮ হাজার ৫৫০ জন। তিনটি আসনে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ২২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে ভোট গ্রহণ হচ্ছে ১৮৫টি কেন্দ্রে। এখানে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪ হাজার ৮৩৮ জন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের মো. দেলাওয়ার হোসেন ও ইসলামী আন্দোলনের ডা. হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ১০৪টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে। মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ জন। এখানে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ১২৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হচ্ছে। মোট ভোটার ৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৮ জন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী, যার মধ্যে একজন নারী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দায়িত্ব পালন করছেন ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ২২ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। মাঠে রয়েছে ১ হাজার ২৫০ জন পুলিশ সদস্য, ১১ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৩২ প্লাটুন বিজিবি, ৩ প্লাটুন র্যাব এবং ৬ হাজারের বেশি আনসার সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে রয়েছে সিসিটিভি ও বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসরাত ফারজানা জানান, “অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাস্তবায়নে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। আমরা আশা করছি, সকলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।”
পড়ুন- ৬ মাস ধরেই গুজব চলছে, নির্বাচনে কোনো শঙ্কা নেই : ডিএমপি কমিশনার


