শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর গণসংযোগ চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ডামুড্যা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিধলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জানে আলম খোকন মাদবর অর্ধশত নেতাকর্মীসহ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে ব্যাপক যোগদানে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় নিজ বাড়িতে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুকে ফুলের মালা পরিয়ে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন খোকন মাদবর। গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অপু তার বাড়িতে পৌঁছালে এ যোগদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
এসময় জানে আলম খোকন মাদবর বলেন, আমি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও সাবেক সাংসদ নাহিম রাজ্জাক আমার জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন। ১৮ সালের নির্বাচনে আমি নৌকার প্রার্থী নাহিম রাজ্জাকের পক্ষে কাজ করিনি। আজ মিয়া নুরুদ্দিন অপু ভাই নিজে এসে আমাকে সম্মানের মালা পরিয়েছেন এই মালার সম্মান জীবন দিয়ে হলেও রাখবো। আগে এই এলাকা নৌকার ঘাঁটি ছিল, এখন এটিকে ধানের শীষের ঘাঁটিতে পরিণত করবো।
অপুও খোকন মাদবর এবং তার সঙ্গে আসা নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, সকল দল মত নির্বিশেষে আমরা সকলে একটি পরিবার।হিংসা বিদ্বেষ ভুলে এ পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সমৃদ্ধ উন্নত শরীয়তপুর গড়ে তুলবো
এর আগে শিধলকুড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে দিনের গণসংযোগ শুরু করেন মিয়া নুরুদ্দিন অপু। এরপর তিনি ডামুড্যা পৌরসভা ও শিধলকুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, বাড়ি ও বাজারে গিয়ে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেন। সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের কাছে ধানের শীষে ভোট চান।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি কেন্দ্রভিত্তিক ভোট ব্যবস্থাপনা, সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
জুমার নামাজ শেষে তিনি ডামুড্যার বিভিন্ন মসজিদে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
পাশাপাশি তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিতদের যেকোনো সমস্যা সরাসরি জানাতে অনুরোধ জানান। গণসংযোগে তিনি শিশু-কিশোরদের সাথে সেলফি তোলেন এবং খেলাধুলার সামগ্রী উপহার দেন। তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।
গণসংযোগের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন এলাকায় নিহত বিএনপি নেতাকর্মী ও গুণীজনদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন।
পরে সন্ধ্যায় ডামুড্যা পৌরসভার ধুপখোলা এলাকায় তিনি বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণা সভায় বক্তব্য রেখে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
গনসংযোগে অপু বলেন,ধানের শীষ শুধু একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে সেই বঞ্চনার অবসান ঘটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন,আমরা সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ শরীয়তপুর গড়ে তোলা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এসএম মাহফুজুর রহমান বাচ্চু সরকার, শাহ মো. আব্দুস সালাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান খান দিপু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহিতুল গণি মিন্টু সরদার, ডামুড্যা উপজেলা আহবায়ক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সদস্য সৈয়দ জিল্লুর রহমান মধু, উজ্জ্বল সিকদার, শ্যামল বেপারী, আব্দুল মজিদ মাদবর,জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব মৃধা নজরুল কবির সহ বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
শেষে মিয়া নুরুদ্দিন অপু সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য সকলের দোয়া কামনা করেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

