নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় আসমা ইউনিয়নের গাভারকান্দা গ্রামে অবস্থিত সিংগুয়ার বিলের বাঁধ এবং খাল পরিদর্শন করেছেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, হাওরের ফসলরক্ষা, সেচ ব্যবস্থা, জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং বজ্রপাত থেকে কৃষকদের রক্ষায় সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে বাঁধ ও খালের পানি প্রবাহ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের বিরোধের তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি করেন তিনি।
সিংগুয়ার বিল এবং এর সাথে সংযুক্ত ‘দুক্কার খাল’ এলাকার কৃষকদের সেচ ও পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে এই খালের পানি আটকে রাখা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার এলাকাটি পরিদর্শনে গিয়ে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হক আটকে থাকা পানির প্রবাহ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, “পানি আটকে রাখাকে কেন্দ্র করে এখানে বাধা ছিল। আমি আজ নিজে এসে সেই বাধা মুক্ত করে দিয়েছি এবং স্থানীয়দের নিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে দিয়েছি। আপাতত সমস্যাটির সমাধান হয়েছে, তবে আমরা এর দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করতে চাই।”
জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, “আমাদের সরকারি যে খালগুলো রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সুপরিকল্পিত খনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। প্রতিটি বিলের সাথে খালের কানেক্টিভিটি (সংযোগ) তৈরি করা হবে, যাতে পানি জমে না থেকে সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়তে পারে। এটি করা গেলে আগামীতে এ অঞ্চলে আর কোনো জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকবে না।”
বোরো ধান কাটার মৌসুমে কৃষকদের অন্যতম দুশ্চিন্তা জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়েও কথা বলেন তিনি। এমপি আনোয়ারুল হক কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, “সারাদেশে কোথাও ডিজেলে কোনো সংকট নেই। আমাদের জ্বালানির প্রায় ৬৫ শতাংশই হলো ডিজেল, যা মূলত কৃষিখাতে ব্যবহৃত হয়। তাই কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।”
অকটেন বা পেট্রোলের সাময়িক সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি সাজানো নাটক। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। আমি মাননীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। আমাদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আরও তেলবাহী বার্জ আসছে। সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুত রাখার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। প্রশাসনকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা পাম্পগুলোতে তদারকি করছে। এছাড়া, একই মোটরসাইকেল চালক যেন বারবার তেল কিনে মজুত করতে না পারে, সেজন্য অ্যাপ তৈরির বিষয়টিও কেন্দ্রীয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকদের দ্রুত পাকা বোরো ফসল ঘরে তোলার আহ্বান জানান এমপি আনোয়ারুল। ফসল কাটার সময় হাওরে বজ্রপাতে কৃষকদের মৃত্যুঝুঁকি কমানোর বিষয়েও তিনি সরকারের পদক্ষেপের কথা জানান।
তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হাওর অঞ্চলে বজ্রপাত বেড়েছে এবং এতে প্রাণহানি ঘটছে। আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা করছি, যেন হাওরের বিভিন্ন পয়েন্টে ‘শেল্টার হাউজ’ (আশ্রয়কেন্দ্র) নির্মাণ করা যায়, যেখানে দুর্যোগের সময় কৃষকরা আশ্রয় নিতে পারেন। এর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে খাল খননের সাথে সাথে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হবে।”
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সাথে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় কৃষক উপস্থিত ছিলেন। কৃষকরা তাদের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধান হওয়ায় সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পড়ুন : নেত্রকোনায় হারভেস্টারে চেপে কৃষকের ধান কাটা উদ্বোধন করলেন বাবর


