‘মাছে-ভাতে বাঙালি’- এই প্রবাদের মধ্যেই আমাদের সংস্কৃতির পরিচয় লুকিয়ে থাকে। এটি কেবল খাদ্যাভ্যাসের প্রতিফলন নয়; বরং বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও পুষ্টি নিশ্চিতে মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রতিফলন। নদীমাতৃক বাংলাদেশে মৎস্য খাত শুধু খাদ্য জোগানই দেয় না, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে বড় অবদান রাখে। এই প্রেক্ষাপটে, দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ‘বিএসসি ইন ফিশারিজ’ প্রোগ্রাম চালু করে উচ্চশিক্ষার পরিসরে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
বাংলাদেশে ফিশারিজ শিক্ষা মূলত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এই উদ্যোগ উচ্চশিক্ষার সুযোগকে আরও সম্প্রসারিত এবং মৎস্য খাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির একটি নতুন দ্বার উন্মুক্ত করেছে।
মৎস্য খাতের বর্তমান চালচিত্র
মৎস্য অধিদপ্তরের ইয়ারবুক অব ফিশারিজ স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ (২০২৩–২৪) অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে দেশে মোট মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫০.৮৪ লাখ টন, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৪৮.৯০ লাখ টনকে ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে চাষভিত্তিক অ্যাকোয়াকালচার খাতের অবদান প্রায় ৫৯.৩৪ শতাংশ (প্রায় ২৯.৭৮ লাখ টন), যা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনেরই প্রমাণ।
জাতীয় জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ২.৫৩ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপিতে প্রায় ২২.২৬ শতাংশ। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ নারী কাজ করছেন। আমাদের জাতীয় প্রাণিজ প্রোটিনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মাছ থেকে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রায় ৯১ হাজার টন মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে প্রায় ৫,১৪৫ কোটি টাকা আয় হয়। ফলে মৎস্য খাত এখন শুধু দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বড় উৎস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিক্ষায় নতুন মাইলফলক
মৎস্য খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে প্রয়োজন হয় মানসম্মত ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আধুনিক অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ উপযোগী জলাধার, গবেষণাগার এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমে এই প্রোগ্রামকে বাস্তবমুখীভাবে পরিচালনা করে। ডিআইইউ-এর এই পাঠ্যক্রমে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বায়োফ্লক প্রযুক্তি, রিসার্কুলেটিং অ্যাকোয়াকালচার সিস্টেম (RAS), সেমি-ইনটেনসিভ ও ইনটেনসিভ
চাষপদ্ধতি, জেনেটিক উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু চাষ ব্যবস্থা—সবই পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর লক্ষ্য হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করা। এসডিজি ও ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা তৈরির মিশন মৎস্য খাত সরাসরি জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ড্যাফোডিলের এই প্রোগ্রামটি এসডিজি ২ (ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব), এসডিজি ৩ (সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ), এসডিজি ৮ (শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) এবং এসডিজি ৯ (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো)-এর অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা (এসডিজি ১৩), পানির নিচের জীবন (এসডিজি ১৪) এবং স্থলভাগের জীববৈচিত্র্য রক্ষা (এসডিজি ১৫)-এর প্রতিও গুরুত্ব দেয়।
এই শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত হয় না; বরং উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের গড়ে তোলে। ব্যবসায় পরিকল্পনা, খামার ব্যবস্থাপনা ও বাজার বিশ্লেষণের মতো বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্র্যাজুয়েশন শেষে শিক্ষার্থীরা নিজস্ব মৎস্য খামার পরিচালনায়ও সক্ষম হয়। পাশাপাশি গ্লোবাল সার্টিফিকেশন, রপ্তানি নীতি এবং ভ্যালু চেইন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় তারা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের সমুদ্র ও জলসম্পদকে যদি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হয়, তবে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা অপরিহার্য। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘বিএসসি ইন ফিশারিজ’ প্রোগ্রাম সেই লক্ষ্য অর্জনের পথকে আরও সুগম করে। এর মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
পড়ুন:সংসদে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করতেই ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন
দেখুন:শিক্ষার্থী নি/হ/তে/র পর পলাতক শহীদ ক্যাডেট একাডেমির শিক্ষকরা |
ইমি/


