বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণের তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ৩ নম্বরে রয়েছে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান বিষয়ক ওয়েবসাইট আইকিউএয়ারের প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ঢাকার বাতাসের মান সূচক ছিল ১৮২, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত। এই সূচক অনুযায়ী ঢাকাসহ পাকিস্তানের লাহোর, থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই, ভারতের দিল্লি এবং ভিয়েতনামের হ্যানয়ের বাতাসও ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। ২৩ মার্চ রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসের মান ছিল ‘অস্বাস্থ্যকর’।
বিশ্বের বায়ুদূষণ সূচকে এই মুহূর্তে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যেখানে বাতাসের মান সূচক ছিল ২৮১, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। এরপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই (১৮৭), তৃতীয় স্থানে ঢাকার ১৮২, চতুর্থ স্থানে ভারতের দিল্লি (১৮১), এবং পঞ্চম স্থানে ভিয়েতনামের হ্যানয় (১৮০)। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তা ‘ভালো’ হিসেবে গণ্য হয়, ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি’ বা সহনীয়, ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ৩০১ এর বেশি হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসাবে বিবেচিত হয়।

ঢাকার বায়ুদূষণের মূল উপাদান হলো বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি,
যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত মানমাত্রার চেয়ে ২০ গুণ বেশি। এই পরিস্থিতি ঢাকাবাসীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, হাঁপানি এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে এই দূষিত বায়ুতে।
ঢাকায় বায়ুদূষণ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা ও শারীরিক অক্ষমতা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই দূষণের কারণে যেসব জনগণ আক্রান্ত হতে পারে তাদের মধ্যে শিশুরা, বৃদ্ধরা এবং যাদের ইতিমধ্যেই শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের দূষিত বাতাসে থাকা মানুষের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার বাতাসের মান সূচক এই মুহূর্তে বিশ্বে একে অপরের কাছে ঘনিষ্ঠ কয়েকটি শহরের মধ্যে খারাপ অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই পরিস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন পরিবেশ সংস্থার কাছে বিশেষ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ইতিমধ্যে বায়ুদূষণ কমানোর জন্য কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তবে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন। ঢাকার যানবাহনগুলোর দূষণ কমানো, নির্মাণ কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচী নির্ধারণ, এবং শহরের গ্রিন জোন বা বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হচ্ছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিশ্বজুড়ে শহরগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণের পরিস্থিতি ব্যাপক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি শুধু মানুষই নয়, পরিবেশের জন্যও মারাত্মক বিপদের সৃষ্টি করছে। সুতরাং, এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে এবং বায়ুদূষণ কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
পড়ুন: রিকশা ঠেকাতে রাস্তায় ‘ট্র্যাপার’ বসাচ্ছে ডিএমপি
দেখুন: হেলিকপ্টারে যাতায়াত করতে পারবেন বাস-গাড়ির চেয়েও কম ভাড়ায়! |
ইম/


