ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০ তম আসরের প্রথমদিকটায় তীব্র শীতের বৈরী আবহাওয়া তথা শৈত্য প্রবাহের প্রভাবে দুপুর থেকে বিকালে দর্শনার্থী উপস্থিতি কম । আবার প্রধান ফটকে দর্শনার্থীদের প্রবেশ, গাড়ী পার্কিং, ফটকে কর্মীদের দূর্ব্যবহারের রয়েছে অভিযোগ।
৩০ তম আসরের ৪র্থ দিনে মেলা ঘুরে দেখা যায়, বাংলাদেশ- ভারতের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে মেলায় থাকা ভারতীয় স্টলে দর্শনার্থী কম । যদিও ভিয়েতনাম,থাইল্যান্ড,ইরান, মালয়েশিয়া,পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার পন্যের স্টলগুলোতে দেখা গেছে কিছু দর্শনার্থী। তবে ভারতীয় স্টলগুলো প্রায় ফাঁকা। প্রতিদিনের মতো পন্যের মুল্য ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। তারা কিনছেন গৃহস্থালি সব পন্য।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, প্রধান প্রবেশ ফটকের কাছেই রয়েছে দিল্লি এ্যালুমিনিয়াম প্রিমিয়াম স্টল। ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বেশ কিছু ক্রেতা আর বিক্রয়কর্মীদের ব্যস্ততা। এই প্রতিবেদক ওই স্টলে প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষায়ও পন্য বিক্রি হতে দেখা যায়নি।
মেলায় ঘুরতে আসা হাটাবো এলাকার বাসিন্দা সৈকত বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের চলমান বৈরী সম্পর্কের প্রভাবে তাদের পন্যে অনীহা আছে। কিন্তু পন্য ভালো। কারন আমরা দুদেশের সুসম্পর্ক চাই। তবে কেনাকাটা আগের তুলনায় কমেছে। একই স্টলে ঘুরতে আসা নলপাথরের বাসিন্দা ইমরান ভুঁইয়া বলেন, মনে হচ্ছে ঢাকার জিঞ্জিরায় তৈরীসব পন্য দিয়ে সাজানো স্টলগুলো । আবার ভারতের বলে দাম বেশি চাচ্ছে। এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। মেলার প্রবেশ ফটক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পার্কিং ব্যবস্থা থাকা আর ফটকে থাকা কর্মচারীদের দূর্ব্যবহারের কারনে দর্শনার্থীরা ভুগছেন।
মেলার মূল প্যাভিলিয়নে জুতা, কসমেটিক্স, কাপড়, চাদর ও হস্তশিল্পসহ বেশ কয়েকটি স্টল ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। কোথাও দুএকজন দাড়িয়ে দেখলেও ক্রয় করতে দেখা যায়নি। কয়েকজন বিক্রয়কর্মী হিন্দিতে ডেকে ডেকে তাদের স্টলে নজর কাড়তে চেষ্টা করছে। আসাম থেকে আসা ভারতীয় নাগরিক আকাশ মনি বলেন, এ দেশের নাগরিক আর আমাদের সৌহার্দ্যতা রয়েছে। দুচারজন উগ্রবাদি উভয় দেশের নাগরিকের জন্যে কোন প্রভাব পড়বে না। তবে মেলায় কেনাকাটা শুরু হয়নি। আশা করি আরও জমবে। বিক্রিও বাড়বে। তবে অপপ্রচারের কারনে সাধারণ নাগরিকদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি রয়েছে।
মেলা ঘুরে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মেলায় এখন পর্যন্ত গৃহস্থালি পন্যের বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে সাংসারিক টুকিটাকি যেমন হাড়ি পাতিল, বিছানার চাদর, শীতের পোষাক,প্রসাধনী ও শিশুদের খেলনা সামগ্রীর বিক্রি ভালো হচ্ছে । তবে পন্যের মান নিয়ে সন্দেহ করছেন ক্রেতারা। মেলায় রয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অস্থায়ী কার্যালয়।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, দৃষ্টি নন্দন ভবন ঘিরে ক্রেতা দর্শনার্থীদের সেলফী আর ফটোসেশানের ব্যস্ততা। তবে বাহিরে ফটকে খালি হাতে বের হতে দেখা গেছে বেশিরভাগ লোককেই।
মেলা ঘুরে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারের ভৌগোলিক অবস্থান ঢাকা বাইপাস সড়ক ও ৩শ ফুট সড়ক এলাকায় মেলার বাহিরে পসরা সাজিয়ে যেসব পন্য রাখা হয়েছে সেসব পন্যই ভেতরে দেখা গেছে। পাশাপাশি খাবারও নিন্ম মানের।
মেলা তথ্য কেন্দ্রসূত্রে জানা যায়, এবার প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ১০০টি, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ৮ টি, জেনারেল স্টল, ফুডকোর্ট, মিনি স্টল, প্রিমিয়ার স্টল প্রায় ১৫৬টি। এছাড়া মূল প্যাভিলিয়নের বাইরে খোলা স্থানে আরও ১২-১৫টি ফুড স্টল রয়েছে। এবারও বাণিজ্য মেলায় ভারত, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। বিদেশী ৭ টি স্টলে তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে। রপ্তানিতে দেশীয় পন্য উন্নত দেশের সাথে যোগাযোগ, সম্পর্ক আর প্রদশর্নের মূল উদ্দেশ্য সফল করতে কাজ করছি।


