পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে এবং একটি মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের আহ্বানের মধ্য দিয়ে নেত্রকোনায় সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইফতারের পূর্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নেত্রকোনা জেলা শাখার মিডিয়া বিভাগের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়।
জেলা মিডিয়া বিভাগের প্রধান ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ বলেন, “রমজান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস। তাকওয়া মানে হলো আল্লাহকে ভয় করে যাবতীয় পাপাচার ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা। রোজা রেখে যদি আমরা মিথ্যা কথা, পাপাচার এবং মন্দ কাজ পরিহার করতে না পারি, তবে এই উপবাসের কোনো মূল্য আল্লাহর কাছে নেই।”
এ সময় তিনি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতের স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। এছাড়া তিনি ইরানে ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং নিহতদের স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ম. কিবরিয়া চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, “রমজান মাস আত্মশুদ্ধির মাস। এ অর্জনের মধ্য দিয়ে আমরা যেন একটি মানবিক, কল্যাণকর এবং নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করতে পারি, সেই প্রত্যাশা করি।” তিনি উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বদরুল আমিন, জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা নুরুল্লাহ ভূইয়া এবং জেলা শ্রমিক বিভাগের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে সমাজে ইনসাফ কায়েমের ওপর জোর দেন। তারা বলেন, ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর করে একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। রমজানের শিক্ষা নিয়ে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজ বিনির্মাণের আহ্বান জানান তারা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি তাওহীদসহ স্থানীয় সংবাদকর্মী, পেশাজীবী এবং জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর উপস্থিত সকলে একত্রে ইফতার গ্রহণ করেন।
পড়ুনঃপোশাক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ১২ মার্চের মধ্যে
ইমি/


