সারা দেশের মতো তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মেহেরপুরের জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরেই অসহনীয় গরমে হাঁসফাঁস করছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। গতকাল শনিবার (১০ মে) বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে শহর ও গ্রামের মানুষজন ঘর থেকে বের হওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। দুপুরের পরপরই রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে পড়ে। তবে জীবিকার তাগিদে রোদে পুড়ে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে দিনমজুর, ভ্যানচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।
ভ্যানচালক তরিকুল ইসলাম বলেন, “রোদে পুড়ে ভ্যান চালাতে খুব কষ্ট হয়। শরীর ঘেমে একেবারে শেষ। কিন্তু যদি ভ্যান না চালাই, তাহলে সংসার চলবে কীভাবে?”
শহরের এক দোকানি ও শরবত বিক্রেতা জাহিদ বিপুল বলেন, গরমে দোকানে লোক আসে না। দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হয়। দুপুর পর্যন্ত কেউ আসে না, বিকেলে একটু লোকজন হয়।
রাস্তায় চলাচলরত পথচারীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পথচারী রবিউল ইসলাম বলেন, দুপুরে রাস্তায় বের হলেই মনে হয় শরীর পুড়ে যাচ্ছে। গরমে দম বন্ধ হয়ে আসে।
এদিকে এই তাপদাহে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে শিশুদের মধ্যে। ডায়রিয়া, ডিহাইড্রেশন ও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শিশু ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, তাপজনিত অসুস্থতা নিয়ে প্রতিদিন কয়েকজন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। অনেকে পানি শূন্যতায় ভুগছে। আমরা শিশুদের রোদে না বের হতে এবং বেশি করে পানি ও তরল খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আলতাব হোসেন বলেন, বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বাতাস দুর্বল থাকায় বৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে এই তাপপ্রবাহ আরও ৩-৪ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টি না হলে তাপমাত্রা আরও বাড়বে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে বেশি। এজন্য প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন বাইরে না যায়, ঘরে থাকুক এবং ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করুক। তারা পরামর্শ দিচ্ছেন হালকা রঙের পাতলা পোশাক পরিধান, প্রচুর পানি ও ডাবের পানি খাওয়া এবং রোদে বের না হওয়ার।
জেলার বাসিন্দারা দ্রুত স্বস্তির জন্য বৃষ্টির প্রার্থনা করছেন। তবে কবে এই গরম থেকে মুক্তি মিলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
পড়ুন: মেহেরপুরে তীব্র তাপদাহ, তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি
দেখুন: কাশ্মীর সীমান্তরেখায় ফের তীব্র গো’লা’গু’লি, ভারতীয় সৈন্য নি’হ’ত
ইম/


