প্রস্তাবিত “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪”-এর কিছু ধারা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে এবং আইন প্রণয়নের পূর্বে কৃষক সমাজকে অংশীজন সংলাপে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে ঝিনাইদহ অঞ্চলের তামাকচাষি ও তামাকখাত–সংশ্লিষ্ট কৃষকরা গণ মঙ্গলবার সকালে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট (গোপনীয় শাখা) আব্দুল আল নাঈমের কাছে আবেদন করেছেন।
গণ আবেদনটি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বরাবর পাঠানো হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, খসড়া অধ্যাদেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্দেশ্যকে তারা সম্মান করেন; তবে কিছু ধারা মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও কৃষকদের জীবন-জীবিকার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলার তামাক চাষিদের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মো. দিদার বাদশা, মো. মজিদ মন্ডল, মো. হাফিজুর রহমান, মো.আজিজুল, হাসেম মিয়া, আশরাফ, সাচ্চু মিয়া এবং হরিণাকুন্ডু উপজেলার আসাদ, মো. রুহুল আমিন প্রমুখ।
কৃষকদের দাবি, বাংলাদেশের তামাক খাত শুধু চাষি ও খুচরা বিক্রেতাদের জীবিকার ভিত্তি নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তামাক ও তামাকজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। তারা আশঙ্কা করছেন, প্রস্তাবিত খসড়ার কিছু ধারা কার্যকর হলে উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে সরকারের রাজস্ব আয় ও রপ্তানি সক্ষমতার ওপর।
গণ আবেদনে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, তামাকজাত দ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ উপাদান নিষিদ্ধ করা হলে উৎপাদন কার্যক্রম বাস্তবে চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এর ফলে বৈধ উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং অবৈধ বাজার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কাঁচা তামাকের চাহিদা হ্রাস পাবে এবং কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এছাড়াও, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব থাকলে কৃষকদের জন্য বিদ্যমান প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও কমিউনিটি উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রান্তিক কৃষক ও তাদের পরিবারের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
খুচরা বিক্রয় নিষিদ্ধ করা এবং খুচরা বিক্রেতাদের জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন আবেদনকারীরা। তাদের মতে, এতে বাজারের স্বাভাবিক কাঠামো দুর্বল হয়ে বৈধ বিক্রয় ব্যবস্থা সংকুচিত হতে পারে এবং অবৈধ বাজার বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যার পরোক্ষ প্রভাব পড়বে কৃষকদের উৎপাদন ও আয়ের ওপর।
গণ আবেদনে কৃষকদের পক্ষ থেকে তিনটি সুস্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে – অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করার আগে কৃষক সমাজকে আনুষ্ঠানিক অংশীজন সংলাপে অন্তর্ভুক্ত করা, কৃষকদের জীবন-জীবিকা ও দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সংকটপূর্ণ ধারাগুলো পুনর্বিবেচনা করা এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ, বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই আইন প্রণয়ন করা।
তামাকচাষি ও তামাকখাত–সংশ্লিষ্টদের মতে, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা অন্তর্ভুক্ত করা হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য অক্ষুণ্ন রেখেই একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর আইন প্রণয়ন সম্ভব হবে।
পড়ুন: জয়পুরহাটে বাসের ধাক্কায় বাইসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
দেখুন: ঘরের চালায় ঢিল, চিৎকার করায় প্রবাসীর স্ত্রীকে হ/ত্যা |
ইম/


