১৩/০২/২০২৬, ২৩:১৮ অপরাহ্ণ
22 C
Dhaka
১৩/০২/২০২৬, ২৩:১৮ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় হামলা হচ্ছে, এটা ফ্যাসিবাদী কায়দা : জামায়াত আমির

‘নির্বাচনে হার-জিত থাকবেই। কিন্তু অস্বাভাবিক কিছু হলে প্রশ্নবিদ্ধ হবেই। আজকে সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় হামলা হচ্ছে। বাড়িঘরে হামলা হচ্ছে, এটা ফ্যাসিবাদী কায়দা। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চাইলেও যদি তারা ইতিবাচক রাজনীতি না চায়, তাহলে আমাদের করার কিছু নেই। এখনই যদি তারা হামলা বন্ধ না করে, আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।’

আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। এসময় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ইনসাফ না পেলে বাধ্য হবো পথ খুঁজে নিতে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রতিশোধের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই; তবে প্রতিকার পাওয়ার ও নেওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে।’

তিনি বলেন, জনগণের রায়ে হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হয়েছে। অবশ্যই সংখ্যাগরিষ্ঠের এই রায়কে বাস্তবায়ন করতে হবে।’

জামায়াতের আমির দলের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার, এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামনুল হকের ফলাফল নিয়ে কথা বলেন। এসব বিষয়ে সুষ্ঠু বক্তব্য এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নাসীরুদ্দীনের ওখানে যেকারণে একসেপ্ট করা হয়েছে তা মামুনুল হকের এখানে বাতিল হয়েছে। সেক্রেটারির আসনসহ বেশকিছু আসনে এমন হয়েছে। যাদের আসনে এমন হয়েছে তারা প্রতিকার চাইবেন। সুনির্দিষ্ট তারিখের ভেতর প্রতিকার না হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। যা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। বন্ধ না হলে আমরা বাধ্য হবো যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে।

তিনি আরও বলেন, বেশ কিছু জায়গায় হঠাৎ ফলাফল বন্ধ। এগিয়ে থাকলেও হারিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় কষ্ট করে আমাদের ফল ধরে রাখতে হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ফলাফল ঘসামাঝা করা হয়েছে। পরিবর্তন করা হয়েছে। সেন্টার দখল করে যা করা হয়েছে তা ভিন্ন উদাহরণ।

বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যা দেখেছে তা তারা তুলে ধরবেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমরাও তুলে ধরবো। আমরা কালো অধ্যায়ের রাজনীতি আবারও চালু হোক, তা চাই না।

ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ভদ্রতা ও ইতিবাচক আচরণকে দুর্বলতা মনে করলে ভুল করবেন। কারণ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি জানানোর পরেও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা হচ্ছে। এটা ফ্যাসিবাদী লক্ষণ। ফ্যাসিবাদ আবারও দেখা দিলে তা দুর্ভাগ্য। এ দায় তাদের ওপর আসবে। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশে থাকতে হলে ঐক্য নিয়েই থাকতে হবে। সংবিধানের আলোকে সবাই সমান। সবার জন্য একই নীতি হতে হবে। যদি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে আবারও তাহলে আমরা ছাড় দেব না।

জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, আমরা আজকে থেকে আপনাদের সঙ্গে আরও শক্তভাবে থাকব। তরুণ সমাজ বুকের রক্ত দিয়ে যা দিয়ে গেছে, যেমন দেশ চেয়েছে, আমরা যা বলেছি আগে তা বাস্তবায়ন করতে আমরা লড়ে যাব। আমাদের অবস্থান আপামর জনগণের পক্ষে। আমাদের বাধ্য করা হলে রাজপথেও আমরা নামব।

নিয়মতান্ত্রিকভাবে ১১ দলকে চলতে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। অনেকে ঋণখেলাপিদের সুযোগ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনকে বলব- আরপিও যাদের কাভার করে না, তাদের ফলাফল স্থগিত করে এর সুরাহা করুন।

গণভোটে হ্যাঁ জিতেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। বাস্তবায়ন না হলে আমরা কণ্ঠ চালিয়ে যাব। অনেক নিয়মবহির্ভূত কাজ করার পরও একটা দল সন্তুষ্ট হতে পারছে না, উল্টো অভিযোগ করছে। আমাদের প্রশ্ন- তারা আর কী চায়? 

সংবাদ সম্মেলনে আরও কথা বলেন এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক।

পড়ুন : দলের ‘নিরঙ্কুশ বিজয়কে গণতন্ত্রের বিজয়’ বলছে বিএনপি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন