24.9 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ২৩:৪৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

তিন দফা সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি আমঝুপি মিনি স্টেডিয়ামের কাজ

তিন দফা সময়সীমা বাড়ানো সত্ত্বেও শেষ হয়নি মেহেরপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আমঝুপি মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ। বিকল্প মাঠের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে স্থানীয় খেলাধুলার সব কার্যক্রম। খেলোয়াড়েরা পড়েছেন চরম অসুবিধায়। অনুশীলনহীন অবস্থায় অংশ নিতে হচ্ছে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে।

বিজ্ঞাপন

কখনো ছিল প্রাণচঞ্চল মাঠ, আজ তা যেন মৃতপ্রায়। মাঠের মাঝখানে পড়ে থাকা মাটির স্তূপ, চারপাশে নীরবতা। অথচ এক সময় এই মাঠে নিয়মিত আয়োজন হতো জেলা পর্যায়ের ফুটবল ও ক্রিকেট লীগের। দর্শকে পরিপূর্ণ থাকত গ্যালারি। খেলোয়াড়দের পদচারণায় মুখর থাকত প্রতিটি কোণা।

২০২৩ সালে সরকারিভাবে ঘোষণা আসে—এই মাঠকে আধুনিক মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তর করা হবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তত্ত্বাবধানে এবং ই ইঞ্জিনিয়ারিং নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়ে শুরু হয় কাজ। নির্ধারিত হয় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার বাজেট। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের প্রথম দিকে মাঠটি পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। বরং তিন দফা সময়সীমা বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ জানানো হয়েছে, জুন ২০২৫-এর মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে। তবে মাঠের বর্তমান চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

এই মাঠকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড়। খুলনা, বরিশাল ও মেহেরপুরসহ আশপাশের জেলার শতাধিক তরুণ খেলোয়াড় এখানে নিয়মিত অনুশীলন করতেন। জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট একাডেমির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলত এখানে। কিন্তু স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ চলায় একাডেমির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে মাঠভিত্তিক অনুশীলন। এখন শুধু ইন্ডোর ভিত্তিক সীমিত পরিসরের প্রশিক্ষণ চালানো যাচ্ছে। এতে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও টেকনিক্যাল দক্ষতা বিকাশে বড় রকমের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তরুণদের জন্য অনুশীলনের বিকল্প না থাকায় কোচ ও খেলোয়াড়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন কোচ বলেন, এভাবে চলতে থাকলে এই অঞ্চলের খেলাধুলা পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়বে। যারা প্রতিযোগিতামূলক খেলার স্বপ্ন দেখে তাদের সামনে এখন শুধু অনিশ্চয়তা।

রবিউল ইসলাম টুটুল খেলোয়াড় বলেন, আমরা নিয়মিত এখানে প্র্যাকটিস করতাম। এখন মাঠ বন্ধ। কোথাও প্র্যাকটিস করার জায়গা নাই। কবে শেষ হবে কাজ, তাও কেউ জানে না।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নির্মাণ প্রকল্পে দেরির কারণ সম্পর্কে জানতে একাধিকবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকেও পাওয়া যায়নি। তবে মাঠ পরিদর্শন করা এক স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক অভিযোগ করে বলেন, প্রথম থেকেই নজরদারির অভাব ছিল। যারা মাঠ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের জবাবদিহির কোনো সঠিক ব্যবস্থা নেই।

মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম জানান, আমঝুপি স্টেডিয়াম একটি ঐতিহ্যবাহী মাঠ। এটি নির্মাণাধীন থাকায় খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মাঠের বাকি কাজ যেন দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

পড়ুন: ফেনীর দাগনভূঞায় কৃষকদের মাঝে বীজ, সার ও চারা বিতরণ

দেখুন: ঠাকুরগাঁওয়ে বিদেশি জাতের তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী কৃষক

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন