বিজ্ঞাপন

তীব্র খরায় তৃষ্ণার্ত কয়রা, সুপেয় পানি এখন সোনার হরিণ

তপ্ত রোদ আর দীর্ঘ খরায় খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট। এক কলস সুপেয় পানির জন্য মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের এই জনপদে নিরাপদ পানির অভাব এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। অধিকাংশ নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে লবণাক্ততার কারণে পুকুর ও জলাশয়ের পানি পান উপযোগী নেই। ফলে সাতটি ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিনই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও ট্রলারে করে সুন্দরবনের ফরেস্ট ক্যাম্প থেকে পানি কিনে আনছেন স্থানীয়রা, আবার কেউ বাধ্য হয়ে পুকুরের দূষিত পানি পান করছেন।
বাগালী ইউনিয়নের বাসিন্দা দিপা রানি জানান, “আড়াই কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে হয়। খড়ার সময় ৪-৫ মাস এই কষ্ট চলতে থাকে।”
কয়রা সদর ইউনিয়নের ময়না বেগম বলেন, “কল চাপলে পানি উঠে না। পুকুরের পানি রেখে উপরের অংশ খেতে হয়। অনেক সময় দেড় কিলোমিটার দূরে গিয়ে পানি আনতে হয়।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব ও পর্যাপ্ত উদ্যোগ না থাকায় বছর বছর এই সংকট বাড়ছে। কিছু পানির ট্যাংক বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান সরদার বলেন, “মানুষ এখন সুন্দরবন থেকে পানি কিনে আনছে। সরকারি উদ্যোগে পুকুর খনন জরুরি।”

পরিসংখ্যান যা বলছে: জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলে গভীর নলকূপ রয়েছে প্রায় ২ হাজার, বিতরণকৃত পানির ট্যাংক রয়েছে ৪২৪০টি, বরাদ্দ ছিল ৮২৯২টি। তবে এসব উদ্যোগ এখনো চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত।

বাগালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী জানান, খরা মৌসুমে মানুষ বাধ্য হয়ে পুকুরের পানি পান করছে। একদিন রেখে তলানি বসে গেলে উপরের পানি ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, পুকুর খনন ও পুনরুদ্ধার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ নিরাপদ পানির স্থায়ী উৎস তৈরি এই তিনটি উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

খুলনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহিম মো. তৈমুর জানান, “পানির ট্যাংক বিতরণ প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।”

পানি সংকট এখন শুধু দুর্ভোগ নয়, বরং মানবিক সংকটে পরিণত হচ্ছে কয়রায়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পড়ুন- ভৈরবে স-মিল অভিযানে জরিমানা, বাড়ছে অবৈধ করাতকলের সংখ্যা

দেখুন- ভাঙ্গলো বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ, তামিমের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন