১৬/০২/২০২৬, ২০:৩১ অপরাহ্ণ
27 C
Dhaka
১৬/০২/২০২৬, ২০:৩১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

তেঁতুলের রয়েছে আশ্চর্য স্বাস্থ্য উপকারিতা, জানেন সেসব?

তেঁতুল গাছ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সৌন্দর্য বর্ধন এবং ফলের জন্য বেশ পরিচিত। এটি এমন গাছ, যা শিমের মতো ফল প্রদান করে। এই শিমের মধ্যে টক জাতীয় শাঁস থাকে, যা পাকার পর বেশ মিষ্টি হয়। কেউ কাঁচা অবস্থায় তেঁতুল খান, আবার কেউ পাকার পর বা রান্নায় এর শাঁস ব্যবহার করেন।

বিজ্ঞাপন

তেঁতুল গাছের পাতা, এর শিম, বাকল ও কাঠের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার রয়েছে। এটি চাটনি, সস, ক্যান্ডি ও পানীয়তে বেশি দেখা যায়। যা এশিয়া, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, আফ্রিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বিভিন্ন খাবারে ব্যবহৃত হয়। তেঁতুলের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম ওয়েবএমডি। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-

স্বাস্থ্য সুবিধাসমূহ:
কিছু মানুষ ঐতিহ্যবাহী ওষুধে তেঁতুল ব্যবহার করেন। যদিও এর চিকিৎসাগত ব্যবহার সম্পর্কে অধিকতর গবেষণার প্রয়োজন। তবে তেঁতুলের আঁশে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। যা স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে।

পুষ্টি উপাদান:
তেঁতুল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে ভিটামিন বি১ (থায়ামিন), ভিটামিন বি৩ (নিয়াসিন), পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাসের মতো উপাদান রয়েছে। প্রতি আধা কাপ তেঁতুল পরিবেশনে ক্যালোরি রয়েছে ১৪৩, প্রোটিন ২ গ্রাম, জিরো ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট ৩৮ গ্রাম, ফাইবার ৩ গ্রাম ও চিনি ৩৪ গ্রাম।

টিস্যুর স্বাস্থ্য:
প্রোটিনের মূল উপাদান হচ্ছে অ্যামিনো অ্যাসিড, যা শরীরের বৃদ্ধি এবং টিস্যু মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান। কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড অপরিহার্য, অর্থাৎ শরীর এসব সংশ্লেষণ করতে পারে না। এ জন্য মানুষকে সেসব উপাদান খাবার থেকে গ্রহণ করতে হয়। তেঁতুলে ট্রিপটোফ্যান ছাড়া প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড উল্লেখযোগ্য পরিমাণ থাকে।

ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস:
বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন কারণেই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করা। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো কোষের ডিএনএ ক্ষতিকারক ফ্রি র‌্যাডিকেলগুলোকে প্রতিরোধ করে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, অনেক ক্যানসার ডিএনএর ক্ষতি দিয়ে যাত্রা করে। উদ্ভিদে থাকা ফাইটোকেমিক্যালের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাগুণ রয়েছে। আর তেঁতুল বিটা-ক্যারোটিনহ কয়েকটি ফাইটোকেমিক্যালে সমৃদ্ধ।

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য:
ভিটামিন বি-এর শ্রেণিতে আটটি ভিন্ন ভিন্ন ভিটামিন রয়েছে, যা একইকাজ করে। সবগুলো পানিতে দ্রবণীয়, এ জন্য শরীর সেসব সংরক্ষণ করতে পারে না। পরিপূরক গ্রহণ না করেই খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন বি রাখা উচিত। এই ভিটামিন সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। একইসঙ্গে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতার জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয় এটি। তেঁতুলে ভিটামিন বি প্রচুর পরিমাণ থাকে, বিশেষ করে থায়ামিন এবং ফোলেট। এতে অন্যান্য উদ্ভিদের মতো বি১২ থাকে না।

হাড়ের স্বাস্থ্য:
যাদের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ম্যাগনেশিয়াম থাকে, তাদের হাড়ের ঘনত্ব অন্যদের তুলনায় ভালো তাকে। অনেকে, বিশেষ করে কিশোর এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম থাকে না। এ ক্ষেত্রে তেঁতুল অনেক উপকারী। এটি ম্যাগনেশিয়ামের একটি সমৃদ্ধ উৎস। তেঁতুলে অনেক উদ্ভিদজাত খাবারের তুলনায় ক্যালসিয়াম বেশি থাকে। খনিজ দুটির সংমিশ্রণ অস্টিওপোরোসিস এবং হাড় ভাঙা প্রতিরোধে সহায়তা করে। ক্যালসিয়ামের জন্য শরীরের ভিটামিন ডি প্রয়োজন। তেঁতুল ভিটামিন ডি-এর জন্য উল্লেখযোগ্য উৎস নয়, এ জন্য এটি অন্যান্য উৎস থেকে গ্রহণ করতে হবে।

সতর্কতা:
তেঁতুলের শাঁসে অধিকাংশ ক্যালোরি চিনির আকারে থাকে। তেঁতুলের পুষ্টিগুণ এখনো অধিকাংশ মানুষের জন্য মূল্যবান। তবে আপনি যদি ওজন বা চিনি গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন, তাহলে অল্প পরিমাণ গ্রহণ করুন। তেঁতুল ক্যান্ডি ও মিষ্টি পানীয়তেও ব্যবহার হয়। এসব খাবারে থাকা অতিরিক্ত চিনি ডায়াবেটিস, স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণের সমস্যা বা বিপাকীয় সিনড্রোমযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া না খাওয়াই ভালো।

পড়ুন:শিক্ষা নিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা

দেখুন:পিরোজপুরে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগ হাতপাখা সমর্থকের বিরুদ্ধে | 

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন