০১/০৩/২০২৬, ১৮:৩৪ অপরাহ্ণ
29 C
Dhaka
০১/০৩/২০২৬, ১৮:৩৪ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

তেতুলিয়ায় এইচ আর এলপিজি অটো ফিলিং স্টেশনে অবৈধভাবে রান্নার সিলিন্ডারে রিফিল হচ্ছে এলপিজি গ্যাস

পঞ্চগড়ে গাড়ির জ্বালানি লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ফিলিং স্টেশনে অবৈধভাবে রিফিল করা হচ্ছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারে।

বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে গতকাল সন্ধ্যায় দেখা যায় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের একটি এলপিজি স্টেশনে নিয়মিত এমন অবৈধভাবে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে এলপিজি গ্যাস রিফিলের কাজ চলছে। এতে যে কোনো সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে এলপিজি এবং রান্নার গ্যাসের পার্থক্য না বুঝেই গ্যাস স্টেশন মালিক অতিরিক্ত লাভের আশায় অবৈধভাবে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে এলপিজি গ্যাস রিফিল করে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের তেঁতুলিয়া উপজেলার কালান্দি বাজারের পাশে মেসার্স এইচ আর এলপিজি অটো ফিলিং স্টেশনে
এলপিজি গ্যাসের স্টেশন রয়েছে। এই স্টেশনের অধিকাংশই ১২ ও ৩৫ কেজি ওজনের রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারে গাড়ির জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত এলপিজি রিফিল করা হচ্ছে। নির্ধারিত বাজার মূল্য থেকে প্রায় তিন চারশ টাকা কমে এ রিফিল পাওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী এবং ভোক্তারা দেদারসে ফিলিং স্টেশন থেকে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে এলপিজি গ্যাস রিফিল করছে। এতে গ্যাস স্টেশন মালিক প্রতিটি ১২ কেজি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে ৭শত ৪২টাকার এলপিজি গ্যাস দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে ১৩শত টাকা। ১২ কেজির রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে এলপিজি রিফিল করে ৫ শত ৫৮ টাকা লাভ করে। প্রতিদিন সন্ধ্যা হতে সারারাত প্রায় শত শত রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে এলপিজি রিফিল করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।এতে বিপদের মুখে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

বিস্ফোরক অধিদপ্তর সূত্র বলছে, রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজিতে ৭০ শতাংশ কোপেন ও ৩০ শতাংশ ডিউটেন সংমিশ্রণ থাকে। আর গাড়িতে ৬০ শতাংশ কোপেন ও ৪০ শতাংশ ডিউটেন সংমিশ্রণ করে ব্যবহার করতে হয়। কোপেন ও ডিউটেন সংমিশ্রণের পার্থক্য থাকায় এলপিজি গ্যাস কোনোভাবেই রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু জেনে বুঝে মেসার্স এইচ আর এলপিজি অটো ফিলিং স্টেশনটি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে এলপিজি গ্যাস রিফিল করে দিচ্ছে। আর এসব সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছে রান্নার কাজে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। কারন এলপিজি গ্যাস তৈল জাতীয়। রিফিল সংমিশ্রণ সঠিকভাবে না হলে গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে বসে থাকে। নাড়াচাড়ার কারণে বিস্ফোরণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয়রা জানায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার ৪নং শালবাহান ইউনিয়নের কালান্দি বাজারের পাশে মেসার্স এইচ আর এলপিজি অটো ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিনই সন্ধ্যা থেকে গভীর রাতে রান্নার সিলিন্ডার গ্যাস রিফিল করা হচ্ছে। পিকআপ ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহণযোগে খালি সিলিন্ডার এনে রিফিল শেষে জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

তেঁতুলিয়া এলাকার একাধিক সিলিন্ডার ব্যবসায়ী জানান মেসার্স এইচ আর এলপিজি অটো ফিলিং স্টেশনে সিলিন্ডার রিফিল করার কারণে আমাদের বিক্রি আগের থেকে অনেক কমে গেছে। কারণ এলপিজি স্টেশনে রিফিল করা সিলিন্ডার বাজার মূল্যর চেয়ে তিন থেকে চারশ টাকা কমে বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষ রিফিলে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে এলপিজি গ্যাস নিচ্ছেন। বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই।

মেসার্স এইচ আর এলপিজি অটো ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রুপচাঁন জানান কতৃপক্ষের নির্দেশেই রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে এলপিজি আমরা রিফিল করতেছি। রান্নার গ্যাস সংকটের কারনে এলপিজি গ্যাস সহজে পাচ্ছে।

এবিষয়ে মেসার্স এইচ আর এলপিজি অটো ফিলিং স্টেশনের মালিক রুমেল জানান, গ্যাস স্টেশনের দায়িত্বে আবু হিরন ভাই। তাঁকে কল দিয়ে জানতে পারেন। তবে আবু হিরনকে একাধিক বার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নাই।

তেতুলিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ইনচার্জ সিরাজুল হক বলেন, রান্নার গ্যাস আর গাড়ির গ্যাস এক নয়। বিষয়টি আমি কতৃপক্ষ অবহিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন আফরোজ খসরু বলেন, খরব টা আমরাও জানতে পারছি, প্রমান পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন- খামেনিকে হত্যা, পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটে তাণ্ডব

দেখুন- ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা দিলেন পুতিন!

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন