নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহে অনিয়ম ঠেকাতে এবং কৃত্রিম সংকট রোধে মাঠে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না, তা নিশ্চিত করতে উপজেলার হিমালয় ফিলিং স্টেশনে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলাম।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে আকস্মিক পরিদর্শনের পর ইউএনও তার নিজ ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
ইউএনও রিফাতুল ইসলাম তার পোস্টে জানান, জনস্বার্থে এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের নিয়মিত অংশ হিসেবে ২৯ মার্চ বিকেলে হিমালয় ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিদর্শনকালে ফিলিং স্টেশনটির তেলের রিজার্ভার এবং প্রতিদিনের বিক্রয় সংক্রান্ত রেজিস্টার খাতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়।
অভিযানের সময় ইউএনও’র সাথে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ সময় ফিলিং স্টেশনের মালিক ও ম্যানেজারকে সরকারের দেওয়া যাবতীয় নিয়ম-নীতি ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ইউএনও তার ফেসবুক পোস্টে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম, কারচুপি বা দুর্নীতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এবং জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে কেন্দুয়া উপজেলায় জ্বালানি তেলের সংকট এবং সরবরাহে কিছু অসাধু চক্রের অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। এর ফলে স্থানীয় কৃষক, চালক ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের এই ঝটিকা অভিযান ও কঠোর নজরদারির খবরে জনমনে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সচেতন মহলের মতে, জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা, নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নিয়মিত এমন নজরদারি অব্যাহত থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজি করার সুযোগ পাবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পড়ুন : পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য কাজ করে গেছেন বেগম রোকেয়া: বিএনপি নেতা রনি


