রাজধানীর পাম্পগুলোর পাশ দিয়ে গেলেই দীর্ঘলাইন দেখা যাচ্ছে। কারণ জ্বালানি তেল পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়। আবার যে পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে তা নিয়েও আছে অসন্তোষ। গ্রাহকদের অভিযোগ, তেল সংকটের ভোগান্তি কমছে না বরং দিন দিন বাড়ছে।
রাজধানীর অনেক পাম্প সরবরাহ ঘাটতির দাবি করে বন্ধ রেখেছে তেল বিক্রি। সেসব পাম্পে গেলে দেখা যায়, নোটিশ ঝুলছে। লিখা আছে, ‘তেল নেই’।
যেসব পাম্পে তেল দেয়া হচ্ছে সেগুলোতেও লম্বা লাইন। বাইকে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার তেল নিতে লাইন ধরে অপেক্ষা করতে হয় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা, যা প্রভাব ফেলছে নগরীর ব্যস্ত জীবনে।
সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও গ্রাহকরা বলছেন, কমেনি ভোগান্তি, উল্টো আরও বাড়ছে। তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। লাইনে অপেক্ষা করাটা খুবই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। সময় অপচয় হচ্ছে, কাজের ব্যাঘাত ঘটছে।
জ্বালানি তেল নিতে রাজধানীর মৎস্যভবন এলাকায় অবস্থিত রমনা পেট্রোল পাম্পের চারপাশে প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে সড়কে লম্বা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকেরা। লাইনের শেষ প্রান্তটি গিয়ে পৌঁছেছে পাম্পের অদূরে গণপূর্ত ভবনের গেটের সামনে। এই দীর্ঘ সারি ঘুরে পাম্পের সামনে পৌঁছাতে গাড়িচালকদের সময় লাগছে অন্তত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রমনা পেট্রোল পাম্প এলাকা ঘুরে এবং চালকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। সেগুনবাগিচা সড়ক হয়ে শিল্পকলার সামনে দিয়ে মৎস্যভবন হয়ে রমনা পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত মোট দূরত্ব এক কিলোমিটার।
সরেজমিনে দেখা যায়, গণপূর্ত ভবনের সামনে থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাম্পে প্রবেশের জন্য আলাদাভাবে রশি দিয়ে লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি লাইনে একসঙ্গে দুটি করে মোটরসাইকেল প্রবেশ করতে পারছে। পাশাপাশি একটি করে প্রাইভেটকার ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেল প্রতি ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কিছু সময় পরপরই বাইরের দিক থেকে কেউ না কেউ এসে লাইনে ঢোকার চেষ্টা করছেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে সামনে ও পেছনের অপেক্ষমাণ চালকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের যে চাহিদা রয়েছে, তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় মজুত আছে। প্রায় তিনমাসের পেট্রোল ও অকটেন সংরক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তিনমাসের পেট্রোল ও অকটেনের মজুত রয়েছে।
জ্বালানি তেল আমদানির ভালো কিছু উৎস পেয়েছেন বলেও জানান অমিত। তিনি বলেন, ‘আগামী তিনমাসের চাহিদা মেটানোর মতো জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
রাশিয়ার তেল আমদানির বিষয়ে স্যাংশন ওয়েভার দেয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সরকার আশাবাদী ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে বাংলাদেশকে তেল আমদানির সুযোগ দিবে।’
পড়ুন : অর্থনীতি এখন প্রতিদিনের সংকট মোকাবিলা করছে : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী


