রাত পৌঁহালেই বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের ৮টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ইতিমধ্যেই সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে গোটা টাঙ্গাইল জেলা। জেলার ৮টি আসনের ১০৬৩ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় মোট প্রায় ১৯ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২টি উপজেলায় ৮টি সংসদীয় আসনে ২৫শ’ পুলিশ সদস্য এবং ১৩ হাজার ৮১৯ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া সেনাবাহিনী ২১শ’ সদস্য, বিজবি সদস্য ৩০১ জন, র্যাব ৮০ জন এবং ব্যাটালিয়ান আনসার ২শ’ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১৬ জন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৬৮ জন এবং সিভিল জজের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার ১ হাজার ৬৩ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৬ হাজার ৪৩১ জন এবং পৌলিং অফিসার ১২ হাজার ৮৬২ জন দায়িত্ব পালন করবে।
এবার ৮টি সংসদীয় নির্বাচনে ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে প্রতীক পাওয়ার পর এক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ান।
জেলা নির্বাচন অফিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার এবার ৮টি সংসদীয় আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১ হাজার ৬৩টি। এর মধ্যে ১৬০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ও ৯০৩টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট ভোট কক্ষ ৬ হাজার ৩৪১টি। এসব আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। মোট ভোটারের মধ্যে বর্তমানে নারী ভোটার রয়েছে ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ জন, পুরুষ ভোটার ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৫ জন।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসন : এ আসনে ১৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭ টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে মধুপুরে ১৫ এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ১২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এ আসনে ভোট কক্ষ ৮৪০টি। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩৩ জন।
টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসন : এ আসনে কেন্দ্র ১৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩ টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে গোপালপুরে ১৫টি এবং ভূঞাপুর উপজেলায় ১৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৮০০টি। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৮ হাজার ৬০৬ জন।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন : ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল-৩ আসন গঠন। এ আসনে মোট ১২২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৭১৩টি। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮২ হাজার ৭২০ জন।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন : ২টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল-৪ আসন গঠিত। এ আসনে ১১৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৬৮৪টি। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯১৭ জন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন : ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল-৫ আসন গঠিত। এ আসনে ১৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৯১০টি। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর- দেলদুয়ার) আসন : ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল-৬ আসন গঠিত। এ আসনে ্র ১৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে দেলদুয়ার উপজেলায় ১৬টি এবং নাগরপুর উপজেলায় ১৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৮৮৪টি। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৬ জন।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন : ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল-৭ আসন গঠিত। এ আসনে ১২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৭২৬টি। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭ জন।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন : ২টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল-৮ আসন গঠিত। এ আসনে ১৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে বাসাইল উপজেলায় ৫টি এবং সখীপুর উপজেলায় ৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৭৮৪টি। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮২৬ জন।
এ ব্যাপারে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করেছি। আশা করছি আজ বুধবার বিকেলের মধ্যেই নির্বাচনী মালামাল সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জেলার ১ হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া জেলার ৮টি সংসদীয় আসনে মোট ১৮ হাজার ৮৯৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
সভায় সাংবাদিকরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ ও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পড়ুন : টাঙ্গাইল-৫ আসনে ধানের শীষের শেষ নির্বাচনী বৈঠক অনুষ্ঠিত


