চেচুয়া বিলে গোসল করলেই স্বপ্ন পুরনসহ সকল রোগবালাই দুর হতো এমনিটই প্রচার ছিল সারা দেশে। দুরদুরন্ত থেকে অনেক কঠিন রোগের রোগীদের নিয়ে আসতো একটু গোসল করতে। যে নিয়তে গোসল করতে নেমেছে তাই পুরন হতো।আজ সেই বিল শাপলা বিলে পরিচিত সারা দেশে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক মুঠো নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নিচে চেঁচুয়া বিলের কালচে পানির ওপর সবুজের ফাঁকে থরে থরে ফুটে আছে লাল শাপলা। সবকিছু মিলিয়ে ত্রিশালের প্রকৃতিকে ভিন্ন যেন এক রূপে সাজিয়ে তোলা হয়েছে রং-তুলির আঁচরে।
তাই যেন সৌন্দর্যমণ্ডিত ময়মনসিংহ শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের গফাকুঁড়ি এলাকার বিশাল চেচুয়া বিল যার মধ্যে রয়েছে (৫০একর জমি)এখন সবার মুখেই শাপলা বিল নামে পরিচিত। এ বিলে লাল, সাদা রংঙ্গের লাখো শাপলা দেখতে সূর্য উদয় থেকে শুরু করে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সপ্তাহের সাত দিনেই ভোর থেকে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে বিস্তীর্ণ লাল শাপলার চেঁচুয়া বিল এলাকা।
যে বিলে শাপলা ফুলে ঘরা পানিতে ঘুরে বেড়িয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকরা। তবে এখানে যে শুধু লাল শাপলা বা প্রকৃতির সবুজ রংঙ্গের সমারোহ ঘটেছে এমনটাও নয়, এখানে লাল শাপলার মাঝেই দেখা মিলছে সাদা শাপলা, সাদা বক, দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেমন্তী বলেন, এ শাপলা বিলে ঘুরে যে কেউ চিরচেনা বাংলার এক অপরূপের দেখা পাবে। তবে এ রূপ দেখতে হলে অবশ্যই ভোরের সূর্য ওঠার আগে সেখানে থাকতে হবে। কারণ ভোরে প্রকৃতি যেভাবে তার রূপ মেলে ধরে সেটি আর গোটা দিনেও উপভোগ করা যাবে না।
সব্যসাচী লেখক এস এম মাসুদ রানা বলেন, এটা একটি অন্যরকম জায়গা। চেঁচুয়া বিলের পাশ ধরে এগিয়ে চলা সড়কে দাঁড়িয়ে যতদূর চোঁখ যাবে, সবুজের মাঝে রক্তিম আভা হাতছানি দেবে। আর বিলের পানিতে নৌকা নিয়ে এগিয়ে চললে দেখা মিলবে লাল আর সাদা শাপলার সঙ্গে বক, ডাহুক, পানকৌড়ি, দোয়েল, শালিক, মাছরাঙাসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, শোনা যাবে তাদের কলকাকলি। এ যেন এক স্বর্গপুরী, যার চারিদিক শিল্পীর নিপুন হাতে আকা চিত্রকর্ম শোভা পাচ্ছে।
পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে আসা আরিশা আক্তার মানহা বলেন, আমি আমার সিয়াম মামার সাথে এই চেঁচুয়া বিলের লাল শাপলা দেখতে এসেছি। আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগছে। বর্ষার ছয় মাস নিচু জমিতে কখনও হাটু আবার কখনও কোমর পানি থাকে। আর এতেই প্রকৃতির এই দান লাল শাপলা ফোঁটে। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে শুরু করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিলে শাপলা বেশি থাকে। প্রকৃতির নিয়মকানুন যারা জানেন বা বোঝার চেষ্টা করেন, তারাই শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে ভোরেই হাজির হয়ে যান বিলে। ছোট ছোট নৌকায় করে বিলজুড়ে ঘুরে বেড়ানোই এখানে আনন্দ যোগায়।
ফেসবুকে ও ইউটিউবে লাল শাপলার অনেক ছবি ও ভিডিও দেখে ঘুরতে আসা হৃদয় বলেন, বিলের পানিতে নৌকায় ভেসে বেড়াতে খুবই ভালো লেগেছে।
চেঁচুয়া শাপলার বিলের মাঝি মইনুল হোসেন বলেন, শাপলা বিলে নামার জন্য কোথাও কোনো ঘাট নেই, নেই যাত্রী ছাউনি ও টয়লেট। এসবকিছুর উন্নয়ন হলে কৃষি ও মৎস্য নির্ভর এ অঞ্চল হবে পর্যটন বান্ধব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, চেচুয়ার শাপলা বিল ত্রিশালের এক অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন কেন্দ্র। এর সৌন্দর্য রক্ষা এবং পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌকা ভাড়া ও অন্যান্য সেবায় শৃঙ্খলা আনতে কঠোর নজরদারিও থাকবে।
পড়ুন: জয়পুরহাটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রী হত্যা, ঘাতক স্বামী আটক
দেখুন: নিজেকে বিয়ে করলেন নিজে২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই বিচ্ছেদ
ইম/


