বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ হচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ফের ডেঙ্গু সংক্রমণের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খুলনা বিভাগের একাধিক জেলা রয়েছে ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে। এবার ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে নতুন উপসর্গও। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দক্ষিণাঞ্চলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাম্প্রতিক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইইডিসিআরের এক গবেষণা রিপোর্ট বলছে, এই বিভাগের ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলা ডেঙ্গু সংক্রমনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি ঝিনাইদহ শহরের ২৭০টি বাড়িতে জরিপ চালিয়ে ১৬২টিতেই পাওয়া গেছে এডিস মশার লার্ভা। সেখানে ব্রুটো ইনডেক্স (বিআই) ৬০ শতাংশ, যা ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত। মাগুরার ব্রুটো ইনডেক্স ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ এই দুই জেলায় এখনো নেই কোনো কার্যকর মশক নিধন কর্মসূচি। ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোও রয়েছে।

প্রতি বছর আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু সংক্রমণের মৌসুম ধরা হলেও এ বছর জুন-জুলাই মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন নতুন নতুন রোগী। গত এক সপ্তাহে বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১৭ জন। এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৭ জন। অনেক রোগীর শরীরে দেখা দিচ্ছে নতুন উপসর্গও।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, এবার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে জ্বরের সঙ্গে ঝাঁকুনি, বমি, ও অতিরিক্ত দুর্বলতার উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি বরগুনাতে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়েছে ডেঙ্গু। এই জেলায় এমন ডেঙ্গু সংক্রমণের কারণ হিসেবে আইইডিসিআর জানিয়েছে, বরগুনায় সংরক্ষিত বৃষ্টির পানি থেকেই ভয়াবহভাবে ছড়িয়েছে ডেঙ্গু।

একই রকমভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের ৭ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ বৃষ্টির পানি ড্রাম, ডেগ, ট্যাংক বা অন্যান্য পাত্রে সংরক্ষণ করেন। এসব জায়গা সহজেই এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হচ্ছে। ফলে একই রকম ঝুঁকিতে রয়েছে খুলনা বিভাগের এসব উপজেলার মানুষ।

ঝিনাইদহ, মাগুরা, কিংবা বরগুনার মতো শঙ্কার পরিস্থিতি থাকলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ নাগরিকদের। জোরদার হয়নি মশক নিধন কার্যক্রম, হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতিও ঢিমেতালে।

ধারণা করা হচ্ছে, এটা ডেঙ্গু ওয়ান সেরোটাইপ। প্রতিটি সেরোটাইপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধুমাত্র লার্ভিসাইড স্প্রে করে পরিবর্তিত সেরোটাইপের কারণে কিন্তু সেভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না। এ রকম পরিস্থিতিতে আমরা বলছি যে, সমন্বিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম প্রয়োজন এবং সেটা এখনই বলে জানান ড. কাজী দিদারুল ইসলাম।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মজিবুর রহমান জানান, প্রতিটি জেলাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে এবং হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখতে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব বলছে, গত বছর খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজারের বেশি, আর প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫ জন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: কুমিল্লায় করোনা ও ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন