বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ আফ্রিকান দেশগুলোয় ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক প্রাণহানি, পানিবন্দি লাখো মানুষ

দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলোতে প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক এবং জিম্বাবুয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।

বিজ্ঞাপন


শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বন্যায় ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধসে পড়ার পাশাপাশি নদীগুলোর পানি উপচে জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া দপ্তরগুলো এই অঞ্চলে আরও বিধ্বংসী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে সতর্কতা জারি করেছে, যা উদ্ধার অভিযানকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মোজাম্বিকে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, গত বছরের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া এই অস্বাভাবিক বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১০৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে বন্যা, বজ্রপাত, অবকাঠামো ধস এবং দূষিত পানির কারণে ছড়িয়ে পড়া কলেরা প্রাদুর্ভাবকে দায়ী করা হয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ২ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ৭০ হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় চরম খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশেষ করে লিম্পোপো এবং এমপুমালাঙ্গা প্রদেশে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। লিম্পোপো প্রদেশে এক সপ্তাহেরও কম সময়ে প্রায় ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। বন্যাকবলিত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সামরিক হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

জিম্বাবুয়ে সীমান্ত সংলগ্ন একটি চেকপয়েন্ট থেকেও নিরাপত্তা কর্মীদের সরিয়ে নিতে হয়েছে। অন্যদিকে জিম্বাবুয়েতে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ জন মারা গেছেন এবং এক হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফামিন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার অন্তত সাতটি দেশে এই বন্যার প্রভাব পড়তে পারে এবং এই পরিস্থিতির পেছনে ‘লা নিনা’ নামক আবহাওয়াগত চক্রের প্রভাব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক থেকেও প্রায় ৬০০ পর্যটক ও কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকায় ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় ও খরা দেখা দিচ্ছে, যা এই অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং ভঙ্গুর অবকাঠামোর দুর্বলতাকে আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে।

পড়ুন- মধ্যপ্রাচ্যে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

দেখুন- শীতেও সবজির দাম বাড়ছে কেন? |

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন