১০/০২/২০২৬, ২০:১২ অপরাহ্ণ
24 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ২০:১২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় পরিবর্তন, এগিয়ে কোন দেশ

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান-এই তিন দেশ এখন রেমিট্যান্স প্রবাহের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে যদিও তাদের অবস্থান, প্রভাব ও নির্ভরতার মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন।

বিজ্ঞাপন

পরিমাণ বিবেচনায় ভারত নিঃসন্দেহে সবার আগে। দেশটি বছরপ্রতি প্রায় ১২০-১৩০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পায়, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। মাসিক হিসাবে ভারতের প্রবাসী আয় ১০ বিলিয়ন বা এক হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। তবে বিশাল অর্থনীতি হওয়ায় ভারতের জিডিপিতে রেমিট্যান্সের অবদান তুলনামূলকভাবে সীমিত। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স মূলত ভোগ ও সঞ্চয় বাড়ালেও সামষ্টিক অর্থনীতিতে তা সংকট নিরসনের প্রধান অস্ত্র নয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই চিত্র অনেকটাই অভিন্ন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান পেয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার (৩৫০ কোটি ডলার) রেমিট্যান্স, যা এক মাসে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই পাকিস্তানের রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ( চলতি বছরের জানুয়ারিতে) বাংলাদেশ পেয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশটির ইতিহাসে এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্য-এই তিন দেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলো শীর্ষ উৎস হিসেবে রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স এখন শুধু আয় নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মুদ্রার মানের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে প্রধান ভরসা। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি টেকসই হচ্ছে। পাকিস্তানে রুপির স্থিতিশীলতা এবং আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বাজারের ব্যবধান কমে আসাই রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ।

শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভূটান ও মালদ্বীপ-দক্ষিণ এশিয়ার এই চার দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের ভূমিকা একরকম নয়, তবে প্রত্যেক দেশের ক্ষেত্রেই রেমিট্যান্স একটি তাৎপর্যপূর্ণ উপাদান। শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকটের পর রেমিট্যান্সের প্রবাহ আবার জোরালো হলে শুরু করেছে এবং এর পরিমান মাসে গড়ে ৫০ থেকে ৭০ কোটি ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবিলায় এই আয় দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। 

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্সনির্ভর দেশগুলোর অন্যতম হচ্ছে নেপাল। মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় কর্মরত নেপালি শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ দেশটির জিডিপির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। 

ভূটানের ক্ষেত্রে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ সীমিত এবং প্রধানত ভারতনির্ভর, ফলে দেশটির রেমিট্যান্সঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। অন্যদিকে মালদ্বীপের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের পাশাপাশি প্রবাসী আয় সহায়ক ভূমিকা পালন করে, বিশেষত সংকটকালে পরিবারের খরচ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় পরিবর্তনের মধ্যেও এগিয়ে আছে ভারত। তবে অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের সবচেয়ে গভীর প্রভাব রয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অঞ্চলটির বহিঃখাতের ভারসাম্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় রেমিট্যান্সের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।

পড়ুন:প্রশান্ত মহাসাগরে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

দেখুন:তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ জনের মৃ-ত্যু, ২৫ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন