১০/০২/২০২৬, ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

দশ হাজার প্রসূতির ভরসা: ৩২ বছরের সেবার পর ‘রাজকীয়’ বিদায় নিলেন সেবিকা সেলিনা

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। হয়ে উঠেছিলেন হাজারো প্রসূতি মায়ের নিরাপদ আশ্রয়। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেই জনপ্রিয় সিনিয়র স্টাফ নার্স সেলিনা আক্তারকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানালো তাঁর কর্মস্থল।

বিজ্ঞাপন

আজ (৬ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর ছিল সেলিনা আক্তারের চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস। তাঁর দীর্ঘ সততা ও নিষ্ঠার সম্মানার্থে সহকর্মীরা তাঁকে সুসজ্জিত একটি ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদায় জানান। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করতালির মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।
৩২ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে সেলিনা আক্তার প্রায় ১০ হাজার প্রসূতির স্বাভাবিক (নরমাল) ডেলিভারি সম্পন্ন করেছেন। মাতৃ ও নবজাতক সেবায় তাঁর এই অসামান্য অবদান পুরো ত্রিশালজুড়ে প্রশংসিত। তাঁর নম্র ব্যবহার এবং দায়িত্বশীলতার কারণে তিনি রোগী ও স্বজনদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন আস্থার প্রতীক।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা,এসএম জিয়াউল বারী বলেন”সেলিনা আক্তার একজন আদর্শ নার্স। নরমাল ডেলিভারিতে তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আমাদের হাসপাতালের বড় সম্পদ ছিল।”

হাসপাতালের নিয়মিত সেবাগ্রহীতা সাদিকুর রহমান জানান, সেলিনা আক্তারের পুত্রবধূ শাহিদা আক্তারও একই হাসপাতালে মিডওয়াইফ হিসেবে কর্মরত। শাশুড়ি ও পুত্রবধূর এই মানবিক সেবা সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদায় বেলায় অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সেলিনা আক্তার বলেন, “মানুষের সেবা করতেই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। কী পেলাম বা না পেলাম সেটি বড় নয়, সারাজীবন মানুষের পাশে থাকতে পেরেছি এটাই তৃপ্তি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”

তাঁর ছেলে জিম্মানুল আনোয়ার মায়ের এই সম্মানে গর্ব প্রকাশ করে বলেন, “মায়ের এই পরিচয়ই আমাদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন।”

পড়ুন: মেহেরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর নারীর মরদেহ উদ্ধার

দেখুন: শুধু গাঁজা সেবন করতে থাইল্যান্ড যেতে বারণ

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন