জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরের অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জানতে চাওয়া দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারার পোস্টের উত্তর দিয়েছেন সারজিস আলম। পারিবারিক অর্থায়নে নিজ জেলায় এই গাড়িবহরের বন্দোবস্ত করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক একাউন্ট থেকে তাসনিম জারা সারজিস আলমের সমালোচনা করে শতাধিক গাড়ি নিয়ে শো-ডাউনের অর্থ উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই গাড়ি বহরের অর্থায়নের ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক একাউন্ট থেকে পোস্ট দিয়েছেন সারজিস আলমও।
তাসনিম জারাকে ধন্যবাদ দিয়ে সারজিস আলম লিখেছেন, প্রথমত, আমাদের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা থেকে সবার আগে যে বিষয়টি বাদ দিতে হবে সেটি হচ্ছে- একজন নতুন করে জাতীয় রাজনীতিতে এসেছে মানেই তার পরিবার সহায়-সম্বলহীন, অসহায়, নিঃস্ব না।
তিনি আরো লিখেছেন, আমার এলাকায় ফেরার সময় এত গাড়ি, এত মানুষ; তাদের আকাঙ্ক্ষা এবং ভালোবাসা নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করবে এবং আমাকে সঙ্গ দিবে এটা আমিও কল্পনা করিনি।
সারজিস লিখেছেন, আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং জেলার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্ধেকের বেশি গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। যেগুলোর ব্যয় আমাদের বহন করতে হয়নি। বাকি প্রায় ৫০ টার মতো গাড়ি ৬০০০ টাকা করে যে তিন লাখ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে সেই টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার পরিবারের আরো ৫০ বছর আগেও ছিলো। এবং আমি বিশ্বাস করি অন্য কেউ না; শুধু আমার দাদা আমার জন্য যতটুকু রেখে গিয়েছেন, সেটা দিয়ে আমি আমার ইলেকশনও করে ফেলতে পারব।
সারজিস আলমের দেয়া এই ব্যাখ্যার পর সমাজপতায় প্রশংসায় ভাসছেন তরুণ এই রাজনীতিবিদ। সাধারণত রাজনীতিবিদরা সমালোচিত প্রশ্ন গুলোতে মুখে কুলুপ এটে বসে থাকেন। রাজনীতির একই প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করে একজন প্রশ্ন করেছেন আরেকজন তরিৎ উত্তর দিয়ে জনগনের কৌতুহল মিটেয়েছেন- গণতন্ত্র আর রাজনীতির সৌন্দর্য এখানেই। এমনটাই বলছেন সচেতনরা।
সারজিস আলম যে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা হলেও নেতিবাচক সমালোচনার মধ্যে পড়েছিলেন সেটা পরিস্কার করেছেন। সচেতনরা বলছেন অন্যান্য রাজনীতিকেরও এই ধারায় আসা উচিৎ। প্রশ্ন করা কিংবা প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য উত্তর দেয়া যেমন সাহসের কাজ তেমনি গণতন্ত্রের সৌন্দর্যকেও ফুটিয়ে তোলে।
এনএ/


