ভাল বেতনে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ।
বুধবার (০১ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে গোপনসূত্রে সংবাদপেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের দৌলতদিয়ার দক্ষিণ পাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার উত্তর চাঁদপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার হারুন অর রশিদ (৪৩) অভিযোগ করেন, তাকে কিরগিজস্তান দেশে নেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত উত্তর চাঁদপুর পশ্চিমপাড়ার আনছার আলী ও তার ছেলে মিলন হোসেন প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে। পরে তাকে ভ্রমণ ভিসায় বিদেশে নিয়ে গিয়ে কোনো কাজের ব্যবস্থা না করে অবৈধভাবে সেখানে ফেলে রাখা হয়।
ভুক্তভোগীর মামলা সূত্রে জানাযায়, দীর্ঘদিন প্রবাসে মানবেতর জীবনযাপন শেষে পরিবারের পাঠানো আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এতে তার পরিবার প্রায় ৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। দেশে ফিরে তিনি অভিযুক্তদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা নানা রকম টালবাহানা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তাকে হুমকি-ধামকি প্রদান করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ মামলায় আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তখন থেকেই আসামি পলাতক ছিলেন।
০১ এপ্রিল বুধবার রাতে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ গোপন সংবাদে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে দৌলতদিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু সাধারণ মানুষের সাথেই নয়, নিজের আত্মীয়-স্বজনদের সাথেও প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃত প্রতারক একসময় ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করলেও পরবর্তীতে তা ছেড়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে জড়িয়ে পড়েন বলে এলাকাবাসীর দাবি।
এছাড়াও অভিযুক্তরা এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে আরও একাধিক ব্যক্তিকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে বিপদে ফেলেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সে তার আপন বোন ও আত্মীয়দের সাথেও প্রতারণা করেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, উক্ত আসামী দীর্ঘদিন যাবত পলাতক ছিল, তার বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ারেন্টসহ মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা সহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক প্রতারণা মামলার ওয়ারেন্ট আছে। ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালে এসব মামলা হয় এবং সে ৩টি মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি। মামলার ১ নং আসামি মিলনের পিতা আনছার আলী আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে আদালতে আরজি করে যে, আমরা সামাজিক ভাবে এর সমাধান করবো বলে জামিন নিয়ে আর সমাধান করেনা, দীর্ঘ দিন সে টাল বাহানা করে আসছে। দীর্ঘদিন মীমাংসার নামে নাটক সাজিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে।
এবিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ্ উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামী দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। তার নামে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য মামলা রয়েছে। তার নামে তিনটি ওয়ারেন্ট রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে বুধবারই চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


