অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দিনমজুর পিতা খলিলুর রহমান-এর অক্লান্ত পরিশ্রমকে সঙ্গে নিয়ে উচ্চশিক্ষার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন আশামনি। চিতুলা পূর্ব পাড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে তিনি শিক্ষাজীবনে গড়েছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
আশামনি মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়-থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরবর্তীতে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে একই বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রাখেন। কলেজ কর্তৃপক্ষও তাকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন।
উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনটিতেই উত্তীর্ণ হন আশামনি। এর মধ্যে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। খলিলুর রহমান তিন সন্তানের জনক। বড় দুই ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে দিতে ব্যর্থ হলেও ছোট মেয়ে আশামনিকে ঘিরেই নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি।
খলিলুর রহমান বলেন, “আমার বোনের ছেলে দিনমজুরি করে পড়াশোনা চালিয়ে আজ একজন প্রকৌশলী হয়েছে। সে শুধু তার পরিবার নয়, সমাজ ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তাকে দেখেই আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। আজ আমার মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, কিন্তু তার পড়াশোনার খরচ নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত।”
সোমবার সকালে হামদর্দ পাবলিক কলেজ-এর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম আশামনির বাবা-মেয়ের সঙ্গে ভবিষ্যৎ শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় অধ্যক্ষ বলেন, “আপনি একজন সফল পিতা। একটি আলোকিত মানুষ তৈরির পথপ্রদর্শক। এমন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আর্থিক সংকটের মধ্যেও মেয়েকে এ পর্যায়ে নিয়ে আসা সত্যিই গর্বের বিষয়। সমাজের বিত্তবানদের উচিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো। অভিভাবকদেরও শিক্ষা নিয়ে সন্তানদের শিক্ষায় মনোযোগী হওয়া উচিত।”
স্বপ্ন আর সংগ্রামের এই গল্প এখন শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণা। যথাযথ সহায়তা পেলে আশামনি একদিন দেশের গর্ব হয়ে উঠবেন—এমন প্রত্যাশা সবার।
পড়ুন: ঈদের তৃতীয় দিনেও ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ, কমলাপুরে ভিড়
আর/


