আজ রোববার ২৪ আগস্ট। ইয়াসমিন ট্রাজেডি’র ৩০তম বার্ষিকী। ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে কতিপয় পুলিশ সদস্যের হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন কিশোরী ইয়াসমিন। প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমে পুলিশের গুলিতে নিহত হন পাঁচজন। সেই থেকে দিনটি নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরের কয়েকজন বিপদগামী পুলিশ সদস্য ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। ওই ঘটনার পর থেকেই দিনটি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে মহিলা পরিষদ জেলা শাখা দিনাজপুরের ইয়াসমিন চত্ত্বরে (দশমাইল মোড়) মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করে। এছাড়াও বাংলাদেশ নারী আন্দোলনসহ বেশ কিছু নারী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরে ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল সর্বস্তরের মানুষ। তখন প্রতিবাদী মানুষের ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে দিনাজপুর শহরের সামু, সিরাজ, কাদেরসহ ৭ জন নিরপরাধ ব্যক্তি নিহত হন। এরপর তৎকালীন দিনাজপুর সিআইডি জোনের এএসপি আফজাল আহমেদ বাদী হয়ে অভিযুক্ত ৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি মাহফুজার রহমান তদন্ত শেষে তৎকালীন পুলিশ সুপার আব্দুল মোতালেবসহ ৯জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। মামলাটি নিরাপত্তাজনিত কারণে দিনাজপুর থেকে রংপুরে স্থানান্তর করা হয়। তৎকালীন রংপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মতিনের আদালতে ইয়াসমিন হত্যা মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ২০০৭ সালের ৩১ আগস্ট ৩ পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদন্ড আদেশ দেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দেয়া রায় পরে উচ্চতর আদালতে বহাল থাকে। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন-পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ময়নুল ইসলাম, কনস্টেবল আব্দুস সাত্তার এবং পিকআপ চালক অমৃত লাল। তাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে।
পড়ুন: দিনাজপুরে পুলিশ ফাঁড়ি দখল করে ব্যবহার হচ্ছে গোডাউন হিসেবে
এস/


