১৩/০২/২০২৬, ২৩:১৯ অপরাহ্ণ
22 C
Dhaka
১৩/০২/২০২৬, ২৩:১৯ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

দিনাজপুরের মাঝিপাড়া শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক দিনাজপুর শহরের মাঝিপাড়া শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ অভিযোগ মিথ্যা, হয়রানি ও প্রহসনমূলক দাবি করেছেন ব্যবস্থাপক আব্দুল মালেক।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক পঞ্চগড় জেলার বোদা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক থাকাকালীন সময়ে মো. আব্দুল মালেক ও তৎকালীন জোনাল ব্যবস্থাপক মো. জিয়া উদ্দীন আকবর পারস্পারিক যোগসাজসে সার্টিফিকেট মামলাভুক্ত ঋণ হিসাবে ক্রোকি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ অবৈধভাবে আদায় করে কৃষকের প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ হয়েছে। রাকাব, সাকোয়া শাখায় ২০২২ সালের ১ জুলাই হতে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কালে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে একই ধরনের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে।

এমন অভিযোগের যোগসূত্রতা খুঁজতে গিয়ে বোদা শাখায় একই ধরনের অনিয়ম আছে মর্মে বোদা শাখায় স্পেশাল নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে নির্দেশ দিয়েছে, ব্যাংকটির রাজশাহীস্থ প্রধান কার্যালয়ের এমডি’স ভিজিলেন্স সেল। প্রধান কার্যালয়ের অডিট বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক বরাবর অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের উল্লেখ থাকায় উক্ত ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে বিশেষ নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে এমডি’স ভিজিলেন্স সেল থেকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের জনৈক এক কর্মকর্তা এই অভিযোগ এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর বরাবর প্রেরণ করেন। যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি এন্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক ১০৩৬৯ নম্বর ডাইরী সম্বলিত পত্রের মাধ্যমে ই-মেইল যোগে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এমডি’স ভিজিলেন্স সেলে প্রেরণ করা হয়। উক্ত একই অভিযোগ এ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর প্রেরণ করেন (ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সচিবালয়ের ডকেট নম্বর ২৮২৮)।

উক্ত অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, পঞ্চগড় জোনের বোদা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল মালেক বর্তমানে দিনাজপুর দক্ষিণ জোনের আওতায় মাঝিপাড়া শাখার ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বোদা শাখায় ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী থেকে ২০২১ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে ৪ বছর ধরে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বোদা শাখায় চাকুরী করে তিনি যেন আলাদীনের চেরাগ পেয়ে যান। নিজ গ্রামে তিনি ১০ একর জমি ক্রয় করেছেন এই বোদা শাখায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে। বিগত এই সাড়ে ৪ বছরে ব্যবস্থাপক হিসেবে কিভাবে কৃষকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন আব্দুল মালেক তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এই বোদা শাখা থেকে অবৈধভাবে ও ব্যাংকিং নিয়ম নীতি লংঘন করে ৬০০ জন ঋণ গ্রহীতার মাইকিং বাবদ গড়ে প্রতিটি ঋণ কেস ডেবিট করে আত্মসাৎ করেছেন ৩০ লাখ টাকা। স্থানীয় পেপারের সাথে চুক্তি করে ৪০০ জন ঋণ গ্রহীতার নিলাম বিজ্ঞপ্তি গড়ে প্রতিটি ঋণ কেস ডেবিট করে আত্মসাৎ করেছেন ৮০ লাখ টাকা। ৬০০ জন ঋণগ্রহীতার সার্ভিসিং চার্জ বাবদ গড়ে প্রতিটি ঋণ কেস ডেবিট করে আত্মসাৎ করেছেন ৩০ লাখ টাকা। ৩০০ জন ঋণ গ্রহীতার ক্রোকি পরোয়ানা বাবদ কৃষকের ঋণ হিসাব হতে গড় কর্তন করে কৃষকের ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ১ম বার ক্রোকি পরোয়ানার পর ঋণ পরিশোধ না হলে ১ মাস অথবা ৩ মাসের মধ্যে উক্ত ঋণ হিসাবে আবারও ২য় বার ক্রোকি পরোয়ানা বাবদ কৃষকের ঋণ হিসাব হতে ২০০০০/- গড়ে কর্তন করে আরও ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন সাবেক এই ব্যবস্থাপক ও তৎকালীন জোনাল ব্যবস্থাপক মো. জিয়া উদ্দীন আকবর পারস্পারিক যোগসাজসে।

উক্ত প্রতিবেদনে অভিযোগকারী ব্যাংক কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্ত করে কৃষককে হয়রানি, কৃষকের টাকা কৃষককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তবে এই অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগে রাকাব, সাকোয়া শাখায় ২০২২ সালের ১ জুলাই হতে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কালে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা চলাকালীন সার্টিফিকেট মামলা দায়ের ও পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম ও আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দল কর্তৃক প্রেরিত ১ম খন্ড নিরীক্ষা আপত্তির ভিত্তিতে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের কমপ্লায়েন্স বিভাগ রাকাব ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর অভ্যন্তরীণ প্রবা/কমপ্লায়েন্স বিঃ ৩৫/৬০১৪-২০০৫/৩৪২ এক পত্রের মাধ্যমে ৭ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে খসড়া অভিযোগনামা মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগে প্রেরণ করে। উক্ত খসড়ার ভিত্তিতে মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগ ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারী প্রকা/মাসউবি-১৩/(১২)/২০২৪-২০২৫/১২০৪ হতে ১২১০ নম্বর পত্র মোতাবেক ৭ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।

এ বিষয়ে রাকাব দিনাজপুর দক্ষিণ জোনের আওতায় মাঝিপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক ও পঞ্চগড় জোনের বোদা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল মালেক আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় মুঠোফোনে জানান, আমার নামে বোদা শাখায় কোন ধরনের অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, নাম বিহীন এক কর্মকর্তা আমার ও তৎকালীন জোনাল ব্যবস্থাপক জিয়া উদ্দিন আকবর এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি থেকে ফের কয়লা উত্তোলন শুরু

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন