দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি ভোগ-দখল নিয়ে এক প্রবীণ কৃষকের ওপর প্রকাশ্যেই হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
কাহারোল উপজেলার হেলেঞ্চাকুড়ি গ্রামের মৃত: মহাদেব চন্দ্র রায়ের পুত্র শ্রী মনিন্দ্র নাথ রায় (৬০) নামের ওই কৃষকের ভুট্টা খেতে জোরপূর্বক সেচ বন্ধ করে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তিনি কাহারোল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কৃষক মনিন্দ্র নাথ রায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, সাইনগর মৌজার ৬৪ শতক পৈতৃক জমিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন, যেখানে বর্তমানে ৪/৫ ফুট উচ্চতার ভুট্টা ফসল রয়েছে।
গত (৫ ডিসেম্বর ২০২৫) আনুমানিক সকাল ৬ ঘটিকার সময় তিনি তাঁর ভুট্টা ক্ষেতে সেচ দেওয়ার জন্য সেলো মেশিন চালু করেন। সেই সময় অভিযুক্ত- উপজেলার কান্তনগর গ্রামের মো. নাইমুল ইসলামের পুত্র মোঃ মামুন ইসলাম, সাহিনগর গ্রামের মৃত: কোটা মোহাম্মদ এর পুত্র মোঃ শফিকুল ইসলাম-খুরু, একই গ্রামের মো: শফিকুল ইসলা-খরু’র পুত্র মোঃ হৃদয় ইসলাম সহ মোট ১৭ জন (৪ জন চিহ্নিত ও ১৩ জন অজ্ঞাত) দলবদ্ধভাবে তাঁর কাছে আসেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা কৃষক মনিন্দ্র নাথকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মেশিন নিয়ে চলে যেতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। কৃষক মেশিন না সরালে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক সেচ মেশিন বন্ধ করে দেন এবং স্পষ্ট হুমকি দেন, এই জমিতে চাষ আবাদ করতে আসলে আমাকে জানে মেরে ফেলবে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়টি হলো, কৃষক যখন তাঁদের বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চান, তখন অভিযুক্তরা জানান যে তাঁরা কান্তা ফার্ম, সেতাবগঞ্জ সুগার মিল্স লিমিটেড থেকে অনুমতি নিয়েছেন।
মনিন্দ্র নাথ রায় অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি তাঁদের কাছে সেই অনুমতি পত্র দেখতে চাইলে অভিযুক্তরা তা দেখাতে পারেননি।
উপায়ন্তর না দেখে এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ে কৃষক মনিন্দ্র নাথ রায় তাঁর পৈতৃক জমির তপশীল (খতিয়ান নং- ১৪১, দাগ নং- ৪৯৪) উল্লেখ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাহারোল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, পৈতৃক জমিতে চাষ করতে গিয়ে এমন গুন্ডামির শিকার হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে এমন।
পড়ুন- ফাঁসিলা ডাঙ্গায় বেগম খালেদা জিয়ার আশুরোগমুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
দেখুন- আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্রের শক্তির বিজয় হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ


