ঢাকার গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ভাবনা’ (সমাজ ও মানবিক বিকাশ) বিলুপ্তপ্রায় আদিবাসী ‘কড়া’, ওরাও, পাহানদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। দিনাজপুর জেলায় বিরল উপজেলার ঝিনাইকুড়ি গ্রামে ‘কড়া ভাবনা পাঠশালা’ প্রাঙ্গণে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়।
রবিবার বিকালে কড়াদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন ভাবনার নির্বাহী পরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান রূপম, উপদেষ্টা ও দিনাজপুর জেলা ভেটেরেনারি কর্মকর্তা ড. আশিকা আকবর তৃষা, দিনাজপুর সৎসঙ্গ বিহারের সভাপতি শিক্ষাবিদ ক্ষিতীশ চন্দ্র শীল (সহপ্রতিঋত্বিক), জেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. শিলাদিত্য শীল, চেকআপ স্পেশালাইজড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কীর্ত্তনীয়া ছায়াছন্দ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সজিব কুমার রায়, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী দিনাজপুর জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুজন কুমার দে, সদালাপের সাধারণ সম্পাদক কর আইনজীবী দুর্যোধন রায় দুর্জয়, সাংবাদিক প্রমথেশ শীল প্রমুখ।
সম্প্রতি সংবাদপত্রে দিনাজপুরের বিলুপ্তপ্রায় আদিবাসী জনগোষ্ঠী কড়াদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নজরে আসে। সংগঠটির সামাজিক দায়বদ্ধতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে কড়া ও অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। ঝিনাইকুড়ি, তীনপাড়া, আছোটিয়া গ্রামের শতাধিক অধিবাসী ও কড়া ভাবনা পাঠশালার শিশুদের জন্য গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের পাঠানো কম্বল, সোয়েটার ও জ্যাকেট সবার হাতে তুলে দেয়া হয়। বাকি শীতবস্ত্রসমূহ সোমবার দিনাজপুর সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙা গ্রামে বিতরণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, দিনাজপুরের বিরল উপজেলার শালবনের পাশে ঝিনাইকুড়ি গ্রামে ২৪ টি পরিবারের বসবাস। জনসংখ্যা একশ’ দুই জন এবং সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙা গ্রামে চারটি পরিবারে সদস্য সংখ্যা ১২ জন। আদিবাসী বিষয়ক গবেষকদের মতে, বাংলাদেশে আর কোথাও কড়াদের উপস্থিতি পাওয়া যায় না। বিলুপ্তপ্রায় এই আদিবাসী গোষ্ঠীটি সব মিলিয়ে বাংলাদেশে বসবাস মোটে একশ’ ১৪ জন, দিনাজপুরেই।
পড়ুন- ভোলা- ৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী’র মনোনয়ন পত্র দাখিল
দেখুন- দাউদকান্দি ব্রিজের নাজেহাল দশা, শঙ্কায় চালক ও যাত্রীরা


