দিনাজপুরে নব মুসলিম দম্পতি মো. আব্দুল্লাহ আল রাব্বি (নবমুসলিম) ও তার স্ত্রী মোছা. সামিয়া আদিয়াত (২০) আইনী সহায়তা পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকসহ কোতয়ালী থানায় অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের মাতাসাগর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এলাকার বর্তমান বাসিন্দা নব মুসলিম দম্পতি মো. আব্দুল্লাহ আল রাব্বি (নবমুসলিম) ও তার স্ত্রী মোছা. সামিয়া আদিয়াত (২০)।
এই দম্পতি আইনী সহায়তা পেতে দিনাজপুর পৌর এলাকার কাচারী বাজার, গণপূর্ত অধিদপ্তর, পিডাব্লিউডি অফিস সংলগ্ন বাসিন্দা সহদেব বাসফোর এর ছেলে শ্রী জুয়েল (৪৩). জুয়েলের স্ত্রী রিতা রানী (৩৫), নিমতলা এলাকার সহদেব কুমার রায়ের ছেলে জয় কুমার রায় (২৬), জয় কুমার রায়ের স্ত্রী উমিলা দেবী (২০), সহদেব কুমার রায়ের স্ত্রী রিনা রানী (৫৪) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে নব মুসলিম হওয়া মো. আব্দুল্লাহ আল রাব্বি এর স্ত্রী মোছা. সামিয়া আদিয়াত উল্লেখ করেছেন যে, স্বামী মো. আব্দুল্লাহ আল রাব্বি একজন নবমুসলিম ও দিনাজপুর পৌরসভার একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। বর্তমানে আমার স্বামী ইসলাম ধর্ম পালন করে আসছে।
গেল ২০২৪ এর ২২ আগস্ট আমার স্বামীর সাথে আমি ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার করছি। আমাদের এক কন্যা সন্তান ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ, বয়স ৮ মাস। আমার স্বামী ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টি উপরোক্ত নামধারীরা আগে থেকে জানলেও গত ১ বৎসর থেকে নামধারীরা আমার স্বামীর ইসলাম ধর্ম গ্রহনের বিষয়টি নিয়ে আমার স্বামীকে সহ আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে।
এছাড়াও গত বছর আমার চাচা শ্বশুর অশোক বাসফোর কে তারা মারধর করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এমনকি চাচা শ^শুরকে বাসায় দেখতে গেলে আমাকে ও আমার স্বামীকে তারা বলে, তোরা এখানে কেন আসছিস, আমার স্বামীকে বলে তুইতো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আমাদের মান সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিস বলে আমার স্বামীকে কিল-ঘুষি ও চর থাপ্পর মারে জয় কুমার রায়। এসময় তোকে আজকে মেরে জীবন শেষ করে দিব বলে হমকী দেয় সে। পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনীকে ডেকে এনে আমাকে ও আমার স্বামীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকী ধামকি দেয় ও মারার জন্য উদ্দ্যত হয়।
এভাবে উপরোক্ত নামধারীরা আমাকে ও আমার স্বামীকে যেখানে দেখতে পায় যেখানেই ভয়ভীতি ও তিরস্কার করে আসছে।
এছাড়াও শ্রী জুয়েল অসৎ উদ্দেশ্যে আমার শাশুড়ীর চুলের মুঠি ও পরনের শাড়ী, ব্লাউজ ধরে টানাটানি করে। আবার শাশুড়ীর পরিহিত শাড়ী বুকের অংশে টেনে ছিড়ে শ্লীলতাহানী করে। এরপর শ্রী জুয়েলের স্ত্রী রিতা রানী আমার শাশুড়ীকে মারপিট করে। আমার শ্বশুরের বৈদ্যুতিক মিটারের তার কেটে দেয়। বিষয়টি জানালে আমি ও আমার স্বামী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে উপরোক্ত নামধারীরা আবারো আমাকে ও আমার স্বামীকে মারপিট করে এবং আমার স্বামী প্রতিবাদ করতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
তারা আমাদের ২/১ দিনের মধ্যেই দিনাজপুর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। নাহলে অটোবাইক ছিনতাই করে নিব বলে হুমকী দেয়। পৌরসভায় আমার স্বামীর নামে মিথ্যা বদনাম দিয়ে পৌরসভা হতে চাকুরী ছাড়া করবে বলে জানায়। তারা সকলেই আমার স্বামীকে বলে তুই তোর বউ বাচ্চাকে ছেড়ে আবারো সনাতন ধর্মে ফিরে আয়। নাহলে তুই সহ তোর বউ বাচ্চাকে জীবনের শেষ করে দিব। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমার স্বামীকে দিনাজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
অভিযোগকারী সামিয়া আদিয়াত বলেন, বর্তমানে উপরোক্ত নামধারীদের হুমকীর কারণে আমরা ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় জীবন যাপন করছি। আমাদের যে কোন সময় মেরে ফেলতে পারে বলে আশংকা করছি। তাই এই বিষয়ে তদন্ত করে উপরোক্ত নামধারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও কোতয়ালী থানায় অভিযোগ করেছেন এই নবমুসলিম দম্পতি।


