১৫/০১/২০২৬, ৪:২১ পূর্বাহ্ণ
17 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ৪:২১ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

দিনাজপুর পুলহাট থেকে খানপুর পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান

দিনাজপুর পুলহাট শিল্পনগরী থেকে খানপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান উদ্বোধন করেছে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ।
দুই দিনব্যাপি অভিযানে অংশ নেয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ও সওজ বিভাগের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পুলহাট থেকে খানপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে শতাধিক দোকান ও ঘরবাড়ি গড়ে ওঠে। এতে সড়কটি সরু হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেও কয়েক দফা সতর্ক করা হলেও দখলদাররা স্থান খালি করেননি। ফলে প্রশাসন এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
অভিযান চলাকালীন সওজ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, জনস্বার্থে এই উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। কর্মকর্তারা সবাইকে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত রাখতে ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
দিনাজপুরে এই উচ্ছেদ অভিযানে একদিকে যেমন সড়ক প্রশস্তকরণের উদ্যোগে সাধারণ মানুষ আশাবাদী, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে মানবিক সহায়তার প্রত্যাশা করেছেন।
দিনাজপুর সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, দিনাজপুর পুলহাট থেকে খানপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকায় সড়কের ৮৫ ফিট প্রশস্ত অংশের ভেতরে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। ১৯৪২ সালে অধিগ্রহণ করা সরকারি জায়গা দখলমুক্ত রাখতেই এই অভিযান।
তিনি আরও বলেন, দখলমুক্ত হওয়া জায়গায় সড়ক প্রশস্তকরণ, ড্রেনেজব্যবস্থা ও জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
অভিযানের সময় দেখা যায়, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে দোকান, টিনের ঘর ও কাঠের স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে এই উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম আর্থিক বিপাকে। অনেকেই জানিয়েছেন, যথাযথ নোটিশ ও সময় না পাওয়ায় তারা দোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে পারেননি।
পুলহাট এলাকার ইলেক্ট্রিক ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান বলেন, ১৫ বছর ধরে এখানে দোকান করছি। একদিনের নোটিশে সব শেষ হয়ে গেল। ঋণ নিয়ে দোকান তুলেছিলাম, এখন সব ভেঙে গেল। কীভাবে ঋণ শোধ করব জানি না।
মুদি দোকানি মো. রশিদুল ইসলাম জানান, আমরা জানতাম না এটা সড়ক বিভাগের জায়গা। আগে থেকে সময় দিলে দোকানের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে পারতাম। এখন সব যন্ত্রপাতি ভেঙে গেছে।
ফল বিক্রেতা হাসিনা বেগম বলেন, এই দোকানেই সংসার চলত। এখন দোকান নেই, আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেল। কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।
মেরামত কারিগর শহিদুল হক বলেন, রাস্তা প্রশস্ত হওয়া দরকার, এতে আমাদেরও সুবিধা হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া উচিত। তাদের জন্য বিকল্প জায়গা না দিলে অনেক পরিবার সমস্যায় পড়বে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: প্রতারণা মামলায় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের সাবেক দুই কর্মকর্তা জেলে

দেখুন: বন্ধুত্বই কাল হলো মোখলেছের, ২৫ দিন পর পাওয়া গেল

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন