বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) আওতাধীন দিনাজপুর এগ্রো সার্ভিস সেন্টারটি এখন রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শতভাগ সাফল্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও বিতরণে ধারাবাহিকতা, বেসরকারি খাতকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান এবং স্বয়ংক্রিয় সেচ প্রযুক্তির মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো এই সেন্টারের প্রধান সাফল্যের ক্ষেত্র। মুলত বিএডিসি এগ্রো সার্ভিস সেন্টার কৃষকদের পাশে থেকে দেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুর এগ্রো সার্ভিস সেন্টার গেল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮৭ লাখ টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে সেন্টারটি।
ফলজ, বনজ ও শোভাবর্ধন মুলক চারা গাছে বেষ্টিত দিনাজপুর এগ্রো সার্ভিস সেন্টারটি। সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নে অবস্থিত ৫০ একরের মধ্যে সেন্টারটিতে রয়েছে ২৬ একর জায়গা বিশিষ্ট লিচু বাগান, ১০ একর জায়গায় অফিসসহ চারা গাছের বেষ্টনী, আবাদি জমি রয়েছে ১২ একর। আরও ২ একর জমি রয়েছে নশিপুরে।
সরেজমিনে গিয়ে সেন্টারে দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রকার গাছের চারা ও শোভাবর্ধন ফুলে শোভা পাচ্ছে সেন্টারটি। তবে সৌরভ ছড়াতে পারছে না চারা গাছগুলোর ডাল, পাতায় সার্বক্ষণিক লেগে থাকা সেন্টারের চতুর্দিকে গড়ে ওঠা অটো রাইস মিলগুলোর ছড়ানো ছাই এর কারণে।
দিনাজপুর এগ্রো সার্ভিস সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, এই সেন্টারটি বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের পাশে থেকে সাফল্য পেয়েছে। বিশেষ করে কৃষিবিদ শাহান পারভীন ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে যোগদানের পর থেকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে সরকারি রাজস্ব বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি যোগদানের পর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮৭ লাখ টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি টাকার শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে সেন্টারটি। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ১ কোটি ১৬ লাখ লক্ষ্যমাত্রাও অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে।
এখানে ফলজ চারার মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঠাল, লিচু, লটকন, পেয়ারা, আপেল, লেবু, করমচা, মাল্টা, কমলা, কুল, নারিকেল, জলপাই, ড্রাগন, রামবুটাসহ আরও অনেক ফলজ গাছের চারা। বনজ চারা রয়েছে মেহগনি, নিম, অর্জন, হরতকিসহ বিভিন্ন উদ্ভিদ। এছাড়াও শোভাবর্ধনকারী চারার মধ্যে রয়েছে ক্যাকটাস, অর্কিডসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফুলের চারা।
বিএডিসি দিনাজপুর এগ্রো সার্ভিস সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহানা পারভীন সময়ের আলোকে বলেন, আমরা কৃষকদের সেবা দিয়ে থাকি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। এছাড়াও কৃষকরা সেন্টারে এসে স্বশরীরে অথবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্যসেবা দিয়ে থাকি। বিভিন্ন চারা, কলম, বনজ ঔষধিসহ অন্যান্য গাছের চারা পাওয়া যায় এখানে। তবে সেন্টারের চতুর্দিকে গড়ে ওঠা অটোরাইস মিলগুলোর ছড়ানো ছাই চারা গাছগুলোর ডাল, পাতায় লেপটে থাকছে। এতে গাছগুলোর বেড়ে ওঠাসহ অক্সিজেনে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করছে।
কৃষিবিদ বলেন, দিনাজপুর এগ্রো সার্ভিস সেন্টার থেকে সরকারি রাজস্ব আদায়ে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। গেল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮৭ লাখ টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি টাকা ও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ১ কোটি ১৬ লাখ লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রাও আমরা অর্জন করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।
সাফল্য নিয়ে তিনি বলেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কারসহ সনদপত্র পেয়েছি। কৃষি ক্ষেত্র প্রতিকুল আবহাওয়ার সাথে সম্পৃক্ত। যদি কোন প্রতিকুল আবহাওয়ার প্রভাব না পড়ে তাহলে প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবো। পরবর্তীতে আরও বেশি রাজস্ব দেশকে দিতে পারবো বলে জানান এই কর্মকর্তা।
আমাদের চেষ্টা, সরকারি প্রচেষ্টা, বাজেট ও ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা আরও এগিয়ে যাবো বলে জানান দিনাজপুর এগ্রো সার্ভিস সেন্টারের উপপরিচালক।


