গত ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১২ মিনিটে উত্তরা দিয়াবাড়িস্থ মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনাকে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকসহ নানান ভাবে গুজুব ও অপপ্রচার চালাচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দূর্ঘটনায় শিশু শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহত এবং আহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতন। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩২ এবং আহত ১৬৫। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিএনসিসি, স্কাউট এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্ধার প্রচেষ্টায় অনেক জানমাল রক্ষা পেলেও, দুর্ঘটনার পর থেকেই নানা গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে অনেকে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর শুরু হয় অপপ্রচার লাশ গুম, প্রকৃত সংখ্যা গোপন, শিক্ষকদের লাঞ্ছনার অভিযোগ ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ এই অভিযোগ গুলোর এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ মেলেনি, বরং ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি, ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় এসব ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিমান দূর্ঘটনার দিন রাতে ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীর নেতৃত্বে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে ঢুকে বিক্ষোভের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়। যদিও সেই সময় ক্যাম্পাস ছিল সিসিটিভির আওতায় এবং পুলিশের উপস্থিতিও ছিল। এ বিষয়ে কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। পরের দিন আন্দোলনের নামে যেসব দাবি তোলা হয় যেমন শিশুদের মরদেহ গুম ও শিক্ষকদের লাঞ্ছনার অভিযোগ-তার কোনোটিরই বাস্তব ভিত্তি নেই। এমনকি, আন্দোলনরত ব্যক্তিদের মধ্যে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, যাদের অনেকের পরিচয় পাওয়া গেছে।
গত ২২ জুলাই আন্দোলনে ছাত্রলীগ কর্মী সফিকুল ইসলাম সাগর, আরিফুল ইসলাম রোহান (ভৈরব ১২ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ), রিয়াদ মাহমুদ রাফি (যুবলীগ নেতা, সহ- সম্পাদক, রাজাপুর ইউনিয়ন যুবলীগ, ফেনী) এবং রায়হান হাওলাদার (সাধারণ সম্পাদক, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগ) এর পরিচয় পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী সেনাবাহিনী ও সরকারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এমনকি উদ্ধার অভিযানের সময় সংগৃহীত ভিডিও ও ব্ল্যাক বক্স নিয়েও ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়, যা সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রে ইতিমধ্যেই খন্ডন করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে শোকাবহ এই সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকা ও গুজব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হলেও, একটি চক্র বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্টের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা কঠোরভাবে প্রতিহত করা জরুরি।
পড়ুন : মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ


