১৮/০২/২০২৬, ২০:৪৬ অপরাহ্ণ
25 C
Dhaka
১৮/০২/২০২৬, ২০:৪৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ, নোবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আল্টিমেটাম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে উপাচার্যসহ শীর্ষ প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের শিক্ষকরা। এ দাবিতে সাত দিনের আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল, উপ-উপাচার্য ড. রেজুয়ানুল হক এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হানিফ মুরাদের পদত্যাগ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নোবিপ্রবির সাদা দলের সভাপতি ও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া ৩৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩১ জনই নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্য উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকাশিত শ্বেতপত্রে বলা হয়, নিয়োগ পাওয়া ২১ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৯ জন এবং ৬৯ জন কর্মচারীর মধ্যে ৫৫ জন একই রাজনৈতিক ঘরানার সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক তদবিরে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এছাড়া আইন বিভাগে একজন সহযোগী অধ্যাপকের নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনা হয়। অন্যান্য নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভর্তি পরীক্ষার সম্মানী বণ্টন নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বলা হয়, সাধারণ শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ ২৬ হাজার টাকার বিপরীতে উপাচার্য ২ লাখ ১৫ হাজার, উপ-উপাচার্য ২ লাখ ১০ হাজার এবং ট্রেজারার ২ লাখ ৮ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন।

এছাড়াও ভর্তি সংক্রান্ত আইটি খাতে ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকার চেক ইস্যু করে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলে ধরেন বক্তারা। উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও করা হয়।

সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক ও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তারা।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। তিনি বলেন, হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে সাদা দলের নেতারা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়া সাদা দলের নেতারা নিজেরাও নিয়োগ সংক্রান্ত রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ছিলেন। নিয়োগের সময় তারা কোনো আপত্তি তোলেননি, এখন কেন এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে- এ প্রশ্নও রাখেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সাদা দলের সভাপতি ও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও ফিমস বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, সদস্য ড. আবিদুর রহমান, জামাল উদ্দিন, আব্দুল বারেক, মিনহাজুল আবেদীন, জনি মিয়া, মোকাররম হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পড়ুন- শরীয়তপুরে মন্দিরের দুই দানবাক্স ভেঙে লাখ টাকা লুট

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন